অবসরের আভাস অবশ্য খুব একটা চমক হয়ে আসেনি। শেষবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেবাগকে দেখা গিয়েছিল দুই বছর আগে। অবসরের ঘোষণা দিলে ভারতীয় ক্রিকেটের একটি যুগেরও অবসান হবে। কদিন আগেই জহীর খান অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এক ঝাঁক নতুন ক্রিকেটারের আবির্ভাবে বদলে গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটে। নতুন যুগের সূচনায় সবার অগ্রভাবে ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। নতুন ‘টেন্ডুলকার’ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল তাঁর। কিন্তু মারকাটারি ব্যাটিংয়ের এমনই প্রদর্শনী দেখাতে শুরু করলেন যে, অন্য কারও ছায়া নয়, নিজের নামেই পরিচিতি পেয়েছিলেন শেবাগ। ২৫০টি ওয়ানডে খেলে ৮ হাজার ২৭৩ রান করেছেন ১০৪ স্ট্রাইক রেটে। মারকাটারি ব্যাটিং করেও বড় বড় ইনিংস খেলার অবিশ্বাস্য এক ক্ষমতা ছিল তাঁর। ওয়ানডেতে একসময়ের সর্বোচ্চ ২১৯ রানের ইনিংসটি ছিল তারই। ওই মারকাটারি ব্যাটিং দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটেও সফলতা পেয়েছেন। ভারতের হয়ে অনেক রথী মহারথীই খেলে গেছেন। কিন্তু দেশটির হয়ে তিন শত রান সংগ্রহের রেকর্ড একমাত্র তাঁরই। তাও দুই দুইবার তিন শত রান করেছেন। স্যার ডন ব্র্যাডম্যান এবং ব্রায়ান লারার পর তিনিই এই কাজ করে দেখাতে পেরেছেন (পরবর্তীতে ক্রিস গেইলও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছিলেন)। আরেকবার ২৯৩ রানে আউট না হলে তো প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনটি ত্রি-শতক হাঁকানোর রেকর্ড টিও তাঁর অধিকারে যেত। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড তাঁর দখলেই আছে। ১০৪ টেস্টে সাড়ে আট হাজার রান নিয়েছেন ৮২ স্ট্রাইক রেটে!
শেবাগকে অবশ্য তাঁর রান সংখ্যা দিয়ে কখনোই বিচার করা যাবে না। বিশ্বের যেকোনো মাঠে খেলতে নেমেই ঝড় তোলার ক্ষমতা দিয়ে তাঁকে চিনতে হবে। তাঁকে মাঠে নামতে দেখে বোলারের শিরদাঁড়ায় যে ভয়ের চোরা স্রোত বয়ে যেত সেটি দিয়েই বিচার করতে হবে শেবাগকে। তাঁর অবিশ্বাস্য সাহসিকতার প্রদর্শনীতে ভরা ইনিংস গুলো ভক্তদের মনে তাজা হয়ে থাকবে অনেক দিন।
prothom alo
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন