Image copyrightfocus banglaImage captionসোহরাওয়ার্দি উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণরত শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১২৩% বেতন বাড়ানোর পরও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা কেন আন্দোলন করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সোমবার রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনও দেশ কখনও ১২৩% ভাগ বেতন বাড়াতে পারে নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা পেরেছে। প্রত্যেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি বেতন পেয়েছে।
তিনি বলেন, ``তারপরও দেখি কেউ কেউ অসন্তুষ্ট। তাদের অসন্তোষ যায় না। কেন অসন্তোষ এটা আমার কাছে বোধগম্য না।``
প্রধানমন্ত্রীর এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন অষ্টম বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করছেন।
শিক্ষকের মর্যাদা অনেক ওপরে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন তারা যদি সচিব মর্যাদা চান তবে তো হলও না। এক্ষেত্রে তারা শিক্ষক না হয়ে সচিব হতেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যাই হোক ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ করা যাবে না। এটি কেউ মেনে নেবে না।
Image copyrightAPImage captionতালেবানের সাথে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা গত বছরও নেয়া হয়েছিল।
আফগানিস্তানের সরকার এবং বিদ্রোহী তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আফগান, পাকিস্তানী, চীনা এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের লড়াই চলছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আশা করছেন তালেবানের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুলে যাবে।
তবে অন্তর্কলহে ছিন্নভিন্ন তালেবানের তরফ থেকে কোন প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নেয়নি।
তালেবান নেতা মুল্লা ওমর ২০১৩ সালে নিহত হয়েছেন, এই গোপন খবরটি ফাঁস হওয়ার পর তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের একটি শান্তি উদ্যোগ গত বছর ভেস্তে যায়।
এর পর গত জুলাই মাসে মুল্লা মনসুরকে তালেবানের নতুন নেতা ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু বেশ কজন গুরুত্বপূর্ণ তালেবান অধিনায়ক তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানায়।
তালেবানের মধ্যে মুল্লা মোহাম্মদ রসুলের নেতৃত্বে আরেকটি উপদলের সৃষ্টি হয় যারা সরাসরি মুল্লা মনসুরের বিরোধিতা করছে।
Image captionবাংলাদেশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে এখন আর বনে বাদাড়ে দৌড়াতে হয়না।
বাংলাদেশের সরকার বলছে খোলা জায়গায় মলত্যাগ মুক্ত দেশ হিসেবে লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ প্রায় দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য রোল মডেল বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে পাশের দেশ ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষই খোলা জায়গায় মলত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
বাড়ি বাড়ি শৌচাগার নির্মাণে বাংলাদেশ গত এক দশকে ব্যাপক ভাবে উন্নতি করেছে আর তাতে মানুষজনের খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাসও কমেছে বলে জানিয়েছেন এ সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাইরুল ইসলাম।
১০ বছর আগে বাংলাদেশের ৩৪ শতাংশ মানুষ টয়লেটে যাওয়ার সুবিধার আওতায় ছিলো।
আর এখন ৯৯ শতাংশ মানুষই এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
অর্থাৎ এখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত কোন গ্রামে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আর বনে বাদাড়ে দৌড়াতে হয়না।
একজন সাধারণ মানুষের বাড়িতেও একটি স্লাব বসানো টয়লেট পাওয়া যাবে বলে দাবি করছে সরকার।
আজই ঢাকায় এসব তথ্য দেয়া হয়েছে স্যানিটেশন বিষয়ক দক্ষিণ এশিয়া সম্মেলনে।
সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার নানা দেশের ৪০০ মতো ডেলিগেশন অংশ নিয়েছেন।
তবে ইদানীং বলা হচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে স্লাব বসানো টয়লেট থাকা মানেই আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নয়।
ত্যাগকরা মল মূত্র কোথায় নিষ্কাসন হচ্ছে সেটিও এর অংশ।
এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছে তা অবশ্য প্রশ্নের সম্মুখীন।
বাংলাদেশে টয়লেটের বর্জ্য এখনো খুব অস্বাস্থ্যকরভাবে প্রকৃতিতে মিশে যাচ্ছে।
শহরাঞ্চলে খোলা ড্রেন ও ম্যানহোলের দুর্গন্ধের হাত থেকে বাচতে নাকে কাপড় চেপে মানুষজনের হাটার দৃশ্য নিয়মিতই দেখা যায়।
Image captionক্লাস না থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন অনেকটাই ফাঁকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা আর অন্য প্রশাসনিক কাজ চললেও শ্রেণীকক্ষ ফাঁকা। শিক্ষার্থীদের অনেকেই এসে হয়তো এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন নতুন নয়তো নিজেদের মধ্যে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের করিডরে একজন ছাত্র বলছিলেন ৮ম বেতন কাঠামো নিয়ে শিক্ষক ও সরকারের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণেই এটি হয়েছে।
তিনি বলেন সরকারও ছাড় দিতে চায় না, শিক্ষকরাও ছাড় দিতে নারাজ।
বাংলাদেশে জাতীয় বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের প্রতিবাদে দেশটির ৩২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সোমবার থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি শুরু করেছে।
শিক্ষকরা বলছেন এই ক্লাস বর্জনের বিষয়ে সরকারকে বারবার সতর্ক করে দিলেও বৈষম্য নিরসনে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
Image captionকলা ভবনের একটি শ্রেনিকক্ষ।
সম্প্রতি বাস্তবায়ন হওয়া ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের উল্লম্ফন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন কেন?
আজ থেকে যে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি হবে সেটি শিক্ষকরা বহু আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে দফায় দফায় তারা প্রতীকী কর্মবিরতি, কালো ব্যাজ ধারণ ও মানব বন্ধনের মতো কর্মসূচী পালন করেছে।
শিক্ষকরা বলছেন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ২৫ শতাংশ এক নম্বর গ্রেড অর্থাৎ সচিবদের সমান মর্যাদা ও বেতন কাঠামোতে যেতে পারতেন।
কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোতে আগের তুলনায় এখন অর্ধেক সংখ্যায় অধ্যাপকরা ১ নম্বর গ্রেড অর্থাৎ সচিবদের সমকক্ষ হতে পারবেন। অধিকাংশ অধ্যাপক দুই কিংবা তিন নম্বরে থাকবেন। এটি নিয়েই তাদের আপত্তি।
শিক্ষকরা বলছেন, বেতন যে যথেষ্ট বেড়েছে সেটি তারা স্বীকার করছেন। কিন্তু আগে অধ্যাপকদের যে অবস্থান ছিল, নতুন বেতন স্কেলে সেখান থেকে অবমূল্যায়ন হয়েছে।
Image captionকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলছেন, একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মবিরতি তার জন্য বিব্রতকর। কিন্তু এছাড়া উপায় ছিলনা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কারণ এই ক্লাস বর্জনের আগে শিক্ষকরা নানা ধরনের কর্মসূচি দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন শিক্ষকদের দাবীর বিষয়টিকে ‘উপেক্ষা’ করা হয়েছে। এ বিষয়টি শিক্ষকদের আত্মসম্মানে আঘাত দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, “আগে অধ্যাপকরা এক নম্বর গ্রেডে যেতে পারতেন। কিন্তু এখন শিক্ষকরা তৃতীয় গ্রেডের উপরে যেতে পারবেনা।”
বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও সেটি রক্ষা না করে উল্টো বিভিন্ন মহল থেকে নানাভাবে উস্কানি দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শিক্ষকরা তাদের দাবি নিয়ে যতোই জোরালো ব্যাখ্যা দিক না কেন, এই ক্লাস বর্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের প্রভাব কী হবে সেটি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
Image captionক্লাস না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে অনেক শিক্ষার্থী আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যত শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই শিক্ষকদের দাবির সাথে একমত হলেও ক্লাস বর্জন কর্মসূচির সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন ছাত্রী বলেন, “ওনাদের (শিক্ষকদের) প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষা দান করা। ওনারা যদি সে দায়িত্ব থেকে সরে আসেন, তাহলে তো ঠিক না।”
আরেকজন ছাত্রী প্রশ্ন তোলেন, “শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে, ক্লাস না নিয়ে তারা যে আন্দোলন করছেন সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত?”
ধর্মঘট চলাকালে নিজ কক্ষেই দেখা পেলাম দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মোঃ সালেহকে ।
জিজ্ঞেস করেছিলাম, ক্লাস বর্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই যে প্রশ্ন তুলছেন, সেটিকে তিনি কিভাবে দেখছেন?
অধ্যাপক সালেহ বলেন, “ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীদের অসুবিধার সৃষ্টি করা আমাদের লক্ষ্য না। আমরা বাধ্য হয়েছি।”
Image captionদর্শন বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মো: সালেহ।
ক্লাস বর্জনের কারণে যে ক্ষতি হবে সেটি পরবর্তীতে বাড়তি ক্লাস নিয়ে পুষিয়ে দেয়া যাবে। কিন্তু দীর্ঘদিন এ আন্দোলন চললে কিছুটা ক্ষতির সম্ভাবনা আছে বলে অধ্যাপক সালেহ উল্লেখ করেন।
শিক্ষকরা আশা করছে তাদের দাবি পূরণ করে সমস্যার সমাধান করা হবে। কারণ এ আন্দোলন থেকে তাদের সরে আসার উপায় নেই।
এদিকে আজ বিকেলে ঢাকায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের কড়া সমালোচনা করে তাদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাবার আহবান জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় আশ্বস্ত করেছেন।
Image captionব্রিটেনের সরকার মনে করে কিছু মাদ্রাসায় শিশুদের কট্টরপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে কট্টরপন্থী বিশ্বাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির সরকার সেখানকার সকল মাদ্রাসা এবং ধর্ম শিক্ষার প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
একইসাথে এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আনা হচ্ছে।
এ নিয়ে সারা দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে মত বিনিময়ের এক প্রক্রিয়া আজ শেষ হচ্ছে।
মাদ্রাসা এবং কোরান শিক্ষার ওপর নজরদারির এই উদ্যোগ নিয়ে ব্রিটেনে মুসলিম সম্প্রদায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সরকার ধর্মে নাক গলাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এ উদ্যোগের বিরোধীদের আশঙ্কা, সরকার যেভাবে চাইবে, একসময় হয়ত সেভাবেই শিশুদের ইসলাম শিক্ষা দিতে হবে।
ব্রিটেনের প্রায় প্রতিটি মসজিদের সাথে কোরান ও ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্কুলের পরে এবং ছুটির দিনগুলোতে শিশু কিশোররা ইসলাম শিক্ষার জন্য যায়।
ব্রিটিশ সরকারের ভয় কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এরকম কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের কট্টরপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বা সেরকম ঝুঁকি রয়ে গেছে।