Image captionতামিলনাডু রাজ্যে এই লড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে
ভারতে ষাঁড়ের লড়াই এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাডু রাজ্যে হাজার হাজার বছর ধরে চালু থাকা জনপ্রিয় এই লড়াইকে সুপ্রিম কোর্ট গত বছর নিষিদ্ধ করেছিলো।
এই ষাঁড়ের লড়াইকে বলা হয় জাল্লিকাটু উৎসব। অনুষ্ঠিত হয় বছরে একবার, জানুয়ারি মাসে। এর পাশাপাশি এই জানুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হয় ধানের ক্ষেত থেকে ফসল তোলার উৎসবও।
এসব অনুষ্ঠানে দুরন্ত ষাঁড়ের ধারালো শিং-এ পুরস্কার বাঁধা থাকে এবং হাজার হাজার পুরুষ ওই ষাঁড় তাড়া করে তাদের শিং থেকে পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়।
Image copyrightbbcImage captionএই অনুষ্ঠানে বহু মানুষ হতাহত হয়
প্রাণীর অধিকার রক্ষায় যারা আন্দোলন করেন তাদের আপত্তির কারণে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৪ সালে এই লড়াই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছিলো। তারা বলছে, এটি তামিলনাডুর সংস্কৃতিরই একটি অংশ।
সংবাদদাতারা বলছেন, জাল্লিকাটু ভারতের প্রাচীনতম একটি খেলা যা আধুনিক ভারতে এখনও খেলা হয়। এই খেলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।
সরকারের তরফ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এখন এই লড়াই আবার চালু হবে এমাসেই।
Image captionনিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এমাসেই আবার এই জাল্লিকাটু উৎসব অনুষ্ঠিত হবে
এসময় ষাঁড়কে হত্যা করা না হলেও সমালোচকরা জাল্লিকাটু উৎসবকে অত্যন্ত বর্বর বলে উল্লেখ করেন কারণ এসময় ষাঁড়কে জোর করে মাদক পান করানো হয় এবং তাদের চোখে মরিচের গুড়ো মেখে দেওয়া হয়।
তবে জাল্লিকাটুর আয়োজনকারীরা বলছেন, নিষ্ঠুরতার হাত থেকে প্রাণীকে বাঁচাতে তারা কিছু বিধিনিষেধ চালু করবেন।
Image copyrightwebImage captionবাংলাদেশে মোট ৮টি কয়েন চালু আছে
কয়েন বা ধাতব মুদ্রা লেনদেন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশের মানুষ, আর এর বিরুদ্ধে গতকাল নরসিংদীর একদল ব্যবসায়ী স্থানীয় এক বাজারে টেবিল পেতে বসে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, ব্যাংকগুলো কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, অথচ ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলে তাদের হাতে জমছে বিপুল পরিমাণ কয়েন।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে সঙ্কট নিরসনে সব ব্যাংককে কয়েন লেনদেন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার কাছেই নরসিংদীর বেকারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সরকার বলছেন, কয়েক মাস ধরেই ব্যাংকগুলো কয়েন গ্রহণ না করায় সেখানকার শতাধিক বেকারি মালিকের কাছে জমে গেছে দু’কোটি টাকারও বেশি মূল্যমানের কয়েন।
তিনি জানান, এক টাকা, দু’টাকা ও পাঁচ টাকার এসব জমে থাকা কয়েন ব্যাংক না নেয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত দশটি ক্ষুদ্র বেকারি, এ নিয়ে কয়েকটি সমাবেশও হয়েছে সেখানে।
তিনি বলেন, “ আমরা ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে তিন চার সপ্তাহ ধরে ঘুরছি। একবার বলে কয়েন গোনার মতো সময় ও লোক নেই। আবার বলে ভল্ট নেই।”
প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেন সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী এরশাদ আলী।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে কমদামে স্থানীয় বাজারে তিনি কয়েন বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন শুধু ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্যে।
একই ধরনের অভিযোগ এসেছে মাগুরা, যশোর, খুলনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ অনেক জায়গা থেকেই।
আটটি কয়েন
বাংলাদেশে পয়সা ও টাকার আট ধরনের কয়েন থাকলেও এখন তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে পাঁচ টাকার কয়েন।
কিন্তু বৈধ হওয়া সত্ত্বেও কেন কয়েন গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো ?
এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা মো: ইসমাইল শেখ বলেন, এটি আসলে ব্যবস্থাপনার সমস্যা।
তিনি বলেন, “কাগজের নোট হলে এর ব্যবস্থাপনা সহজ আর কয়েন অনেক বেশি হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে সমস্যা হয়। তবে নিয়মানুযায়ী কেউ কয়েন জমা দিতে আসলে সেটি নিতে হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলছেন, সমস্যাটি জানতে পেরে সব ব্যাংক এবং তাদের প্রতিটি শাখাকে কয়েন লেনদেনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সব অফিসকে বলেছি তারা যেন লেনদেন ঠিকমতো করতে পারে।”
তবে মি. সাহা বলেন, তাদের ধারণা গুজব সৃষ্টির কারণেই কয়েন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিলো।
তিনি বলেন বৈধ মুদ্রা বা কয়েন নিয়ে সংশয়ের কোন ভিত্তি নেই কারণ এগুলো সচল আছে এবং থাকবে।
Image copyrightsiteImage captionআই এসের এই দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে
জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশের ঝিনাইদহে গতকাল এক ব্যক্তিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করছে 'সাইট ইন্টেলিজেন্স' নামের এক মার্কিন ওয়েবসাইট।
সমির উদ্দিন নামের এই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে গতকাল ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
ঝিনাইদহের পুলিশ বলছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছে।
তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, কয়েক বছর আগে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা নিলেও সমির উদ্দিন আবার ইসলাম ধর্মে ফিরে এসেছিলেন।
স্থানীয় একটি গির্জার কয়েকজন বলেছেন, ধর্মান্তরিত হওয়া ও খৃস্টান ধর্ম প্রচারের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাজারে তার ছোট্ট একটি দোকানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঝিনাইদহে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় একজন ভ্যান-চালক চিকিৎসার জন্যে সমির উদ্দিনের কাছে গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন যে মি. উদ্দিন হৃদরোগে মারা গেছেন।
কিন্তু পরে বুকের ওপর থেকে কাপড় সরিয়ে প্রথমে সেখানে রক্ত ও পরে ছুরিকাঘাতের দুটো চিহ্ন দেখতে পান।
সমির উদ্দিনের বয়স ছিলো প্রায় ৮৫।
তিনি বলেন, নিহত সমির উদ্দিন ২০০১ সালে খৃস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং সেকারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে তিনি বলেন যে গত এক বছর ধরে মি. উদ্দিন ইসলাম ধর্মই পালন করে আসছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন।
“অতীতে ধর্ম পরিবর্তনের কারণে তার উপর কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারে। পারিবারিক বিরোধ বা শত্রুতাও থাকতে পারে।” বলেন হাসান হাফিজুর রহমান।
ইসলামিক স্টেটের তৎপরতার ওপর নজর রাখে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এরকম একটি ওয়েবসাইট সাইট ইন্টেলিজেন্স দাবি করেছে, আই এস মি. উদ্দিনকে হত্যা করেছে।
তবে ঝিনাইদহের পুলিশ তা মানতে রাজি নয়।
তারা বলছে, সেখানে আই এস নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই।
নিহতের ছেলে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, তার পিতা কোনোদিন ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেননি। তার ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা তারা শুধু লোকের মুখেই শুনেছেন।
গজল সম্রাট গুলাম আলি আগামী সপ্তাহে কলকাতায় একটি অনুষ্ঠান করতে চলেছেন।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিবাদের মুখে অনুষ্ঠান বাতিল করে ফিরে যেতে হয়েছিল মুম্বই থেকে।
ব্যথিত শিল্পী বলেছিলেন, তিনি ভারতে আর কোনোদিনই অনুষ্ঠান করবেন না।
তখনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আজ জানিয়েছে, আগামী ১২ই জানুয়ারি কলকাতায় গজলের অনুষ্ঠান করবেন গুলাম আলি।
আজ মোহনবাগান ফুটবল ক্লাবের মাঠ ও স্টেডিয়াম ঘুরে দেখে সেখানেই অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
প্রথমে ইডেন গার্ডেনে ওই অনুষ্ঠানটির কথা ভাবা হলেও ১৫ তারিখে আই সি সি-র কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করতে আসবেন বলে সেখানে গুলাম আলির অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সি এ বি-র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি।
গুলাম আলির অনুষ্ঠানের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেন রাজ্য সংখ্যালঘু বিত্ত ও উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সুলতান আহমেদ।
মি. আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “আমরা আজ মোহনবাগান মাঠ আর গ্যালারী পরিদর্শন করে ওখানেই অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। ১২ তারিখ ওখানেই গাইবেন গুলাম আলি।”
মুম্বইতে গুলাম আলির অনুষ্ঠান উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে বাতিল করে দিতে হয়েছিল গত বছর।
হিন্দু সংগঠন শিবসেনা বলেছিল ওই পাকিস্তানী শিল্পী যদি মুম্বইতে গান করেন, তাহলে বানচাল করে দেওয়া হবে অনুষ্ঠানটি।
তারা বলেছিল ওই শিল্পীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নেই, কিন্তু যে পাকিস্তান থেকে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে ভারতের ওপরে, তারই প্রতিবাদে কোনও পাকিস্তানীকে অনুষ্ঠান করতে দেবে না তারা।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুলতান আহমেদের কথায়, “রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র, নজরুল – এঁরা হলেন ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রতীক। পশ্চিমবঙ্গে আমরা সহনশীলতার বাতাবরণ এখনও পাই ওইসব মনীষীদের শিক্ষার ফলেই। গুলাম আলির অনুষ্ঠানের দিন আমরা সেই বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বের বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চাই।”
গুলাম আলির অনুষ্ঠান নিয়ে কলকাতার সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
সঙ্গীত অনুরাগী বাবজি সান্যাল বলছিলেন, “গুলাম আলি গজলের সম্রাট। তাঁর গান সরাসরি শুনতে পাওয়া সারা জীবনের একটা স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে – যদি আমন্ত্রণপত্র যোগাড় করে উঠতে পারি। মুম্বই বা দিল্লিতে যদি কোনও রাজনৈতিক কারণে তার অনুষ্ঠান না হয়ে থাকে, তাহলে কলকাতাই হল আদর্শ জায়গা – কারণ এই শহর বা এই রাজ্য সাংস্কৃতিক দিক থেকে অন্যদের থেকে এগিয়ে।”
সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও ১২ তারিখের অনুষ্ঠানের জন্য কোনও টিকিট থাকছে না।
আয়োজক সরকারি সংস্থাটি এটিকে আমন্ত্রণমূলক অনুষ্ঠান করছেন। প্রায় ১৮ থেকে কুড়ি হাজার আমন্ত্রণ পত্র তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্য তার এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের জমি দখল করছেন বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঠাকুরগাঁ জেলার একজন এমপি দবিরুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন এমপি এবং মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ তুলে ধরে।
তবে এমপি দবিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন, যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মামলা করা হয়, তখন সরকার গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
আইনও সালিশ কেন্দ্র এবং ব্লাস্টসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের সাথে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, দেশের উত্তরে ঠাকুরগাঁ জেলায় বালিয়াডাঙ্গি এলাকায় হিন্দুদের জমি দখল এবং তাদের ওপর হামলার অভিযোগ তারা অনুসন্ধান করেছে।
তাদের সেই অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য তারা তুলে ধরেছে সংবাদ সম্মেলনে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেছেন, ঠাকুরগাঁয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে অনেক তথ্য পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, এই সংসদ সদস্য তার চা বাগানের পাশে একটি রাস্তার জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া চা বাগানের সাথে একটি হিন্দু পরিবারের জমি দখল করা হয়েছিল, এমন অভিযোগের তথ্যও তারা পেয়েছেন।
কয়েক মাস আগে সংবাদ মাধ্যমেও এমন খবর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তবে আওয়ামী লীগ নেতা এবং সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার আসছেন।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, লীজ নেয়া জমি তিনি ফেরত দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে তার বিরুদ্ধে অসত্য এসব অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ঠাকুরগাঁয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করা বা কোন পদক্ষেপই নেয়নি। দেশের আরও কয়েকটি জায়গা থেকেও একই ধরণের অভিযোগ পাওয়ার কথা বলছে সংগঠনগুলো।
সুলতানা কামাল বলেছেন, নোয়াখালী,পিরোজপুর, মুন্সিগঞ্জ,গাইবান্ধা, ঝালকাঠিসহ কয়েকটি জায়গা থেকে হিন্দুদের জমি দখল এবং তাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তারা অনুসন্ধান করেছেন। বেশিরভাগ জায়গায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা, সংসদ সদস্য, এমনকি মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তারা তথ্য পেয়েছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা না করে কোন উদ্দেশ্য থেকে ঢালাও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পুলিশ বা সরকারের এলে সরকার গুরুত্ব দিয়ে তাতে ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সন্দেহভাজন পলাতকদের একজন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসী নাগরিক সালাহ আবেদস্লাম। তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না।
বেলজিয়ামের কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্রাসেলসে তিনতলার যে অ্যাপার্টমেন্টে গত মাসে অভিযান চালানো হয় সেখানে সালাহ আবদেস্লামের হাতের ছাপ পাওয়া গেছে।
এই অ্যাপার্টমেন্টটি এমন এক জায়গায় যেখানে প্যারিসের হামলার পরদিন সকালে সন্দেহভাজন একজন হামলাকারীকে দেখা গিয়েছিলো বলে বলা হচ্ছিলো।
ধারণা করা হয় এই ব্রাসেলসেই প্যারিস হামলার পরিকল্পনা করা হয়।
Image copyrightAPImage captionপ্যারিসে চালানো ওই হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়। ফুল দিয়ে তাদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহ আবদেস্লাম হামলার পরে এই ফ্ল্যাটে কয়েকদিনের জন্যে লুকিয়ে ছিলেন বলে তারা ধারণা করছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাপার্টমেন্টটি ভুয়া নাম পরিচয়ে ভাড়া নেওয়া হয়েছিলো। তবে সরকারি কৌশুলিরা বলছেন, ইতোমধ্যেই পুলিশের হেফাজতে আছে এরকম একজন সন্দেহভাজন হামলাকারীর নামে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে এসিটোন পারক্সাইড উদ্ধার করা হয়েছে যা বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এসময় সেখান থেকে হাতে তৈরি তিনটি আত্মঘাতী বোমার বেল্টও উদ্ধার করা হয়েছে।
Image caption২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতা ঘটে
(বিবিসি বাংলার টিভি অনুষ্ঠান ‘বিবিসি প্রবাহে’ আজ দেখবেন ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং বিরোধীদল বিহীন সরকার ও রাজনীতি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। এই টিভি প্রতিবেদন এবং এ নিয়ে আলোচনা দেখতে চোখ রাখুন আজ রাত ৯:৩৫ মিনিটে চ্যানেল আই’তে।)
বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যত বিরোধীদল বিহীন একটি সংসদ বাংলাদেশে বিরাজ করছে বলে বিরোধী রাজনৈতিকরা দাবি করেছেন। বিরোধী রাজনৈতিক মহলে সরকারকে অগণতান্ত্রিক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী?
বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ''১৫৪ জন প্রার্থীকে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দল এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে এখন যে সমস্ত পন্থা নিতে হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই পন্থাগুলো কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দলের পন্থা না, যেমন জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা, নির্বাচনকে ম্যানিউপুলেট করা।''
Image captionবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
তবে তার সঙ্গে একমত নন আওয়ামী লীগের নেতারা।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ''গণতন্ত্র কিভাবে থাকবে? ব্যালট হয় ভোট হয়, পৌরসভা নির্বাচন দেখেন বিএনপির কর্মীরা যদি মাঠে থাকতে না পারে। তাদের তো মনোবলটাই নাই। যে কোনো রাজনৈতিক দল যদি আন্দোলনে পরাজিত হয়, সে সবকিছুতে পরাজিত হয়।''
''আমরা `৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের অধীনে ইলেকশন করেছিলাম। জানতাম আমরা ক্ষমতায় আসতে পারবো না। মাত্র ৩৯টি আসনে আমরা বিজয়ী হয়েছি। সেদিন যদি আমরা ইলেকশন না করতাম, `৮৬তে যদি আমরা ইলেকশন না করতাম, `৯১তে যদি আমরা ইলেকশন না করতাম তাহলে `৯৬তে ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসতে পারতাম না।''
Image captionআওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ
দুই নেতার বক্তব্যেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি উঠে আসে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে এ অবস্থার কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষায়, ``শুধু বিএনপি অ্যাফেকটেড না সব রাজনৈতিক দল অ্যাফেকটেড হয়েছে। সিভিল সোসাইটি ইজ অলসো অ্যাফেকটেড। কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না। এখানে একটা সর্ট অফ ফ্যাসিজম চলছে।``
অন্যদিকে, তোফায়েল আহমেদ জানান, যা কিছু হচ্ছে 'সংবিধান অনুযায়ী হচ্ছে।`
তিনি বলেন, ``বাংলাদেশে দুটো প্রধান পার্টি। একটা আওয়ামী লীগ আর একটা বিএনপি। এখন আপনি যদি নির্বাচন না করেন, তাইলে নির্বাচনটা বন্ধ করে দিয়ে আমরা কি সামরিক শাসন আনবো?''
Image captionজাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের
বিএনপির জাতীয় নির্বাচন বর্জনের কারণে বাংলাদেশের সংসদ এখন কার্যত: বিরোধীদল বিহীন বলে মনে করেন খোদ বিরোধী দলের নেতারাই।
জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের বলেন, ``যদিও গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিরোধীদলের নামকরণ করা হয়েছে, এ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি সরকারবিরোধী কোনো প্রস্তাবে না ভোট দেয়নি। এটা একটা একদলীয় সংসদ বলা যায়।``
জাতীয় পার্টি চাপের মুখে এ অবস্থানে এসেছে উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ''এই সরকার তার গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়েছে।''
তার ভাষায়: ''এখন বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই বলেই আমি মনে করি। একটার পর একটা নির্বাচন খারাপ হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যথেষ্ট সংকুচিত করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এটাতো নিশ্চিতভাবে স্বৈরশাসন।''
Image captionগণফোরাম সভাপতি ডক্টর কামাল হোসেন
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার কথা বলেছিল। যদিও এখন দলটি বলছে ২০১৯ সালের আগে জাতীয় নির্বাচন হবে না।
এ প্রসঙ্গে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ''সরকার বলেছিল এটা। তারও অপেক্ষায় মানুষ আছে। ১৬ কোটি মানুষ আমাদের, কিন্তু মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত্য আছে। এখানে কেউ অন্য কিছু চায় না, কার্যকর গণতন্ত্র চায়।''
ড. হোসেন বলেন পাকিস্তান আমল কিংবা বাংলাদেশ আমল যখনই বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে তখনই কিন্তু সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে।
আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
``আজকে একটা কথা বলা হচ্ছে যে উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই উন্নয়ণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংবিধানের মূলনীতি বাদ দিয়ে তো উন্নয়ন হবে না। সংবিধানের মূলনীতির মধ্যে আছে গণতন্ত্র।``