শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকারীদের অপরাধের মাত্রা উদ্বিগ্নজনক হারে বাড়ার পর বিজ্ঞানীরা গত কয়েক বছর ধরে এই অপরাধীদের মস্তিষ্কের গঠন নিয়ে গবেষণা করার পর একটা বিষয়ে একমত হতে পারেন নি যে শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের এই অপরাধের তাড়না আসে কোথা থেকে।
‘‘মানুষ চায় পিডোফাইল বা শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় তুলতে, তাদের কারাগারে পাঠাতে বা তাদের নির্বীজ করে সাজা দিতে। কিন্তু তাদের এই অপরাধ প্রবণতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানা গেলে হয়ত শিশুদের এই নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’’এই মন্তব্য করেছিলেন ব্রিটেনে শিশু নির্যাতনের শিকার এক কিশোরী এপ্রিল জোনসের বাবা। ২০১২- র অক্টোবরে তাকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে অপরাধী মার্ক ব্রিজার। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণে বলা হয় ওই কিশোরীকে অপহরণের আগে অপরাধী অনলাইনে শিশু পর্নোগ্রাফিক সাইটে শিশুদের অশ্লীল ছবি দেখছিল।
ক্যানাডার টরন্টোর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষক ডঃ জেমস ক্যান্টর শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকারীদের মস্তিষ্ক নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তার গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ কিন্তু বির্তকিত তথ্য।
তিনি বলছেন , ‘‘পিডোফিলিয়া একটা যৌন প্রবণতা এবং মানুষ এই প্রবণতা নিয়ে জন্মায়। সময়ের সঙ্গে এর পরিবর্তন ঘটে না।’’
ড: ক্যান্টর বলছেন সাধারণ মানুষ যেমন শিশুদের দেখলে আদর করে – তাদের সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করে- এই পিডোফাইলদের মধ্যে সেধরনের প্রবণতা জাগে না- শিশুদের দেখলে তাদের মধ্যে যৌন প্রবণতা তৈরি হয়।
তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী এধরনের প্রবণতা জন্ম নেয় যখন মাতৃগর্ভে একটা শিশু বেড়ে ওঠে এবং তার মস্তিষ্ক গঠিত হয়। তিনি গবেষণায় দেখেছেন মা গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ ও অপুষ্টিতে ভুগলে শিশুর মস্তিষ্কের যথাযথ বিকাশ হয় না।
তবে এ নিয়ে আরও গবেষণা করে তিনি দেখতে চান এই প্রক্রিয়াকে বন্ধ করা যায় কীনা।
তার এই গবেষণাকে বির্তকিত বলছেন ক্যানাডারই অটাওয়ার একজন গবেষক ড: পল ফেডোরফ। তিনি মনে করেন না এটা জন্মগত সমস্যা। তার মতে এর চিকিৎসা সম্ভব।
তিনি বলেছন অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ দিয়ে এধরনের অপরাধীদের যৌন প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব। তার মতে ওষুধ ব্যবহার করে শিশুদের ওপর তাদের যৌন নির্যাতনের প্রবণতা যদি রোখা যায় তাহলে এদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহায়তাদান সম্ভব। bbc
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন