ইসরায়েলে হামলা এড়াতে জেরুসালেমের অনেক এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রীসভা। অনেক এলাকায় পুলিশকে সহায়তা করতে সৈন্যদেরও মোতায়েন করা হবে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করে গতকাল জেরুসালেমে বেশ কয়েকটি রক্তাক্ত হামলার পর।তিনজন ইসরায়েলি এসব হামলায় নিহত হয়, অন্যদিকে হামলাকারীদের একজনও পুলিশের গুলিতে মারা যায়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রাতে জরুরী বৈঠকে বসে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক কেবিনেট কমিটি। সেই বৈঠক থেকেই পূর্ব জেরুসালেমকে ঘিরে এক ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের ঘোষণা দেয়া হয়।
এর অংশ হিসেবে শহরের আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলো কার্যত অবরুদ্ধ করা হচ্ছে, প্রত্যেকটির প্রবেশ মুখে বসানো হচ্ছে তল্লাশি চৌকি।
কেবিনেট কমিটি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালাবে, তাদের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে ফেলা হবে, এগুলো আর কখনোই নূতন করে তৈরি করতে দেয়া হবে না।
এমনকি তাদের জেরুসালেমে থাকার অধিকারও কেড়ে নেয়া হবে।
কারণ যেসব তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে, তাতে তো কেবল সন্দেহভাজন হামলাকারী নয়, জেরুসালেমের সব বাসিন্দাদেরই চলাফেরা বিঘ্নিত হবে।
বরং এখন পুলিশ আর পূর্ব জেরুসালেমের বাসিন্দাদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা জরুরী বলে তিনি মনে করেন।
জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঐ অঞ্চল সফরে যাবেন বলে কথা রয়েছে।
ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এই সর্বশেষ উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে পবিত্র নগরী জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদকে ঘিরে কথিত এক ইসরায়েলি পরিকল্পনা।
মুসলমানদের কাছে মক্কা এবং মদিনার পর সবচেয়ে পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত এই মসজিদ প্রাঙ্গণ ঘিরে ইসরায়েল আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়।
এর বিরুদ্ধে যে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ ও হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনিরা, তা ধীরে ধীরে ব্যাপক রূপ নিচ্ছে।
এটি ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় ইন্তিফাদায় রূপ নিতে পারে, এমন কথা বলছেন অনেক বিশ্লেষক। bbc bangla
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন