ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের এই বছরের সবচাইতে ব্যয়বহুল সিনেমাটি বহু বিদেশী দর্শক আকৃষ্ট করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বিশ্বের বেশ কিছু অংশে এরই মধ্যে ভারতীয় চলচ্চিত্র বেশ সফলতা লাভ করেছে। তবে দিলওয়ালে নামে নতুন এই চলচ্চিত্রটি দিয়ে তারা চীন, ফ্রান্স ও মরক্কোর মতো দেশেও হিন্দি ভাষার ছবি জনপ্রিয় করে তুলতে চাইছে।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই মহা তারকা শাহরুখ খান এবং কাজল।তাদের সাথে কথা বলেছে বিবিসির এশিয়ান নেটওয়ার্ক।
শাহরুখ খানকে এই গ্রহের অন্যতম বড় চলচ্চিত্র তারকা বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে বহুসংখ্যক পুরষ্কারে ভূষিত তারকা কাজল। আর এই দুজন একসাথে ভারতের সবচাইতে সফল এবং আকাঙ্ক্ষিত জুটি। তারা একসাথে এখন পর্যন্ত ছটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, মনে করা হয়, প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রই ভারতের সবচাইতে জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে। তাদের এই সাফল্যের রহস্য কি?
তাদের এই জুটির সর্বশেষ চলচ্চিত্র দিলওয়ালে, এই ছবির একটি গানের চিত্রায়ন করতে বলিউডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। গেরুয়া শিরোনামের এই গানটিতে প্রায় দশ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে। এটির চিত্র ধারণ করা হয়েছে আইসল্যান্ডের একটি লোকেশনে, যেখানে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনসেরও চিত্রায়ন হয়েছে।
দিলওয়ালে প্রসঙ্গে কাজল বলছেন, আমি মনে করি দিলওয়ালে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। এটিতে গল্প আছে, নাটকীয়তা আছে, উড়ন্ত গাড়ী আছে, আর আছে মজার মজার সব কৌতুক এবং মজার মজার সব মানুষের অভিনয়।
সর্বশেষ ২০০১ সালে একটি হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিল, সেই চলচ্চিত্রটির নাম লগান। প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প হিসেবে এত বিশালাকৃতি ধারণ করবার পরও কেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সেভাবে আসছে না?
শাহরুখ বলেন, লগান ছিল আর্ট এবং বাণিজ্যিক ধারার একটি মিশ্রিত রূপ এবং এটা ছিল একটি বিস্ময়কর চলচ্চিত্র। বাস্তবতা হচ্ছে, আপনার কাছে যদি সেরকম গল্প থাকে তাহলে বাজেট থাকবে না। আর একটা ইস্যু রয়ে গেছে, দু:খিত এভাবে বলাটা আমার ঠিক হচ্ছে না, কিন্তু আমি যখন আমেরিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছি, তখন তারা আমাকে এই বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যে ‘বিশ্বের সবচাইতে বড় তারকা যাকে আমেরিকা চেনে না’।
ভারতের বাইরে এখন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বলিউডের চলচ্চিত্রের বাজার রয়েছে। কিন্তু মি. খান মনে করেন আসছে বছরগুলোতে এই বাজার আরো কিছু দেশে বিস্তৃত হবে।
শাহরুখ মনে করেন, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু জায়গাতেও ভারতীয়দের চেষ্টা করার সময় এসেছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পে নেতৃত্বের প্রয়োজন যারা আমাদের শিল্পকে বাইরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবে, অন্তত পরিচয় করিয়ে দেবে। এরই মধ্যে অবশ্য বহির্বিশ্ব ভারতীয় চলচ্চিত্রের স্বাদের পরিচয় পেতে শুরু করেছে বলে তিনি মনে করেন।
শাহরুখ খান বলছেন, এর মধ্যেই বলিউড ৫৬টি দেশে পৌঁছে গেছে। কে জানে হয়তো দু'একবছরেই এটা একশো দেশ হয়ে যাবে এবং একদিন সারা বিশ্বে আমরা পৌঁছে যাব।
৫০ বছর বয়সে এসেও শাহরুখ খানের অগ্রযাত্রা থামার কোনও লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। আগামী ছয়মাসে তার অন্তত তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি কোনায় ভারতীয় সিনেমা নিয়ে যাবার যে লক্ষ্য রয়েছে তার, হয়তো তা তার প্রত্যাশার আগেই পূরণ হয়ে যাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন