শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৬

ভারতে গরুর মাংস রাখার সন্দেহে ট্রেনে মুসলিম দম্পতির ওপর হামলা

Image copyrightReuters
Image captionভারতে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে
ভারতে আবারও গরুর মাংসের জন্য এক দম্পতিকে হেনস্থা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন।
মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ওই মুসলমান দম্পতি অভিযোগ করেছেন, ট্রেনে করে তারা গোমাংস নিয়ে যাচ্ছেন, এই অভিযোগে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এর আগে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে বাড়িতে গোমাংস রাখা আছে এই মিথ্যা রটনা ছড়িয়ে এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলার বাসিন্দা নাসিমা বানো আর তার স্বামী মুহম্মদ হুসেইন অভিযোগ করেছেন, গোরক্ষক সমিতি নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা গোমাংস খোঁজার নামে তাদেরকে হেনস্থা করেছে।
ওই দম্পতি যখন ট্রেনে করে এক স্টেশন থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছিলেন, তখন খিরকিয়া নামের একটি স্টেশনে ওই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা উঠে ওই দম্পতিকে বলে যে তাদের কাছে খবর আছে কেউ গোমাংস নিয়ে ট্রেনে উঠেছেন।
তারপর সবার ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে তারা। এই দম্পতির ব্যাগও তল্লাশি করা হয়, কিন্তু তারপরেই শুরু হয় হেনস্থা।
মি. হুসেইন বিবিসিকে টেলিফোনে বলেছেন, প্রত্যেক যাত্রীর ব্যাগ বা সুটকেসে তল্লাশি করছিল ওরা। সব মালপত্র বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তার স্ত্রী প্রতিবাদ করতে গেলেই স্ত্রীর হাত ধরে টানতে থাকে অভিযুক্তরা।
তিনি বলেন, ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় তার স্ত্রীকে। কিছু ব্যাগ বাইরেও ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
গোমাংস অবশ্য পায় নি ওই গোরক্ষক সমিতির সদস্যরা।
Image copyrightAFP
Image captionউত্তরপ্রদেশ রাজ্যে বাড়িতে গোমাংস রাখা আছে এই মিথ্যা রটনা ছড়িয়ে এই মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল
দেখা যায় যে ওই দম্পতির কাছে যা রয়েছে তা হল মহিষের মাংস।
কিন্তু শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে পুলিশ ওই সমিতির সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে।
হারদার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট রামবাবু শর্মা বিবিসিকে বলেন, কুশীনগর এক্সপ্রেসে কিছু মাংস আটক করা হয়েছিল আর তা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়।
তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এলাকায় কোনও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নেই এই ব্যাপার নিয়ে।
ভারতে গত কয়েক মাস ধরেই গোমাংস নিয়ে নতুন করে বিবাদ সৃষ্টি করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।
বাড়িতে গোমাংস রয়েছে, এই খবর রটিয়ে দিয়ে উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে এক মুসলমান ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনা চূড়ান্ত ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি করেছে – এই অভিযোগ তুলে দেশের বহু কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী তাদের সরকারি পুরস্কার ফিরিয়ে দিতে থাকেন।
তবে বুদ্ধিজীবীদের সেই প্রতিবাদে বিশেষ কান না দিয়ে একের পর এক বি জে পি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের সরকারগুলোও গোমাংস বিক্রি ও খাওয়া নিষিদ্ধ করতে থাকে।

খুৎবার বাংলা ও আরবি বক্তব্যে সামঞ্জস্য রাখার উদ্যোগ

Image copyrightBBC Bangla
Image captionমসজিদে নামাজ পড়ছেন মুসুল্লিরা
বাংলাদেশের মসজিদগুলোকে যেন রাজনৈতিক প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা না যায়, সেজন্যে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
কর্মকর্তারা বলছেন, কোন কোন মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবার সময় বাংলা বক্তব্যে এমন অনেক রাজনৈতিক বিষয়ের অবতারণা করা হয় যা পরোক্ষভাবে জঙ্গি কার্যক্রমকে উস্কে দিতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, এটি বন্ধ করতে এবং খুতবায় আরবিতে দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে যেন বাংলায় দেয়া বক্তব্যের মিল থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে তারা সামনের মাস থেকে ইমামদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
সাধারণত জুম্মার নামাজের সময় খতিবরা প্রথমে বাংলায় বক্তব্য দেন। এ বক্তব্য খানিকটা দীর্ঘ হয়। এরপর আরবিতে কম সময়ে খুৎবা পড়া হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মো: আফজাল বলছেন,বাংলা বক্তব্যের সময় অনেক সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টানা হয়।
মি: আফজাল বলেন, “খতিবরা বাংলায় যে ওয়াজ করেন সেখানে যেন তারা আরবি খুৎবার সারমর্মটি বলেন। মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে কোরান-হাদিসের পরিপন্থী অথবা কোন রাজনৈতিক দলের কথাবার্তা মসজিদে যেন ওনারা না করেন।”
সেজন্য খতিবদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানালেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। এজন্য এরই মধ্যে একটি খতিব কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
খুৎবা যেন আরবিতে দেয়া হয় সেজন্য আগামী মাস থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
মি: আফজাল বলেন , “আমাদের দেশের হাজার বছরের রীতি খুৎবা আরবিতে দিতে হবে। এটাই আমরা মনে করি উত্তম। খুৎবাতে কোরানের আয়াত থাকে, হাদিসের আয়াত থাকে। এবং কোরান হাদিসের আলোকেই সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে।”
Image captionএকটি মসজিদে নামাজের দৃশ্য
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় তিন লক্ষ মসজিদ আছে। সব মসজিদের খতিব এবং ইমামদের চিন্তা এবং দৃষ্টিভঙ্গি একরকম নয়। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ঢাকার একটি মসজিদের ইমাম মুফতি তানঈম হাসান মাহমুদী বলেন, তিনি আরবি খুৎবার সাথে বাংলা বক্তব্যের সামঞ্জস্য রেখে সেটিকে উপস্থাপন করেন।
মি: মাহমুদী বলেন,“আমরা বাংলা যে বয়ানটা করি সেটাকে হুবহু আরবি খুৎবায় বলি। হাদিসের রেফারেন্স ছাড়া কোন কথা হয়না।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা খুৎবায় বাড়তি কিছু বলা হয় না।
মি: মাহমুদী বলেন, “ যেহেতু বাংলায় সময় একটু বেশি সেজন্য বুঝিয়ে বলার জন্য বিভিন্ন উদাহরণ আসে। কিন্তু এর মূল কথাটা আরবির মধ্যে চলে আসে। ”
খতিবরা যাতে জঙ্গি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় সেজন্য সরকারের তরফ থেকে তাদের আহবান করা হয়েছে।
দেশের মসজিদগুলোতে ইমাম এবং খতিবরা কি ধরনের বক্তব্য রাখছেন সে বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
মি: আফজাল বলেন , “ আমি ৬০ হাজার ওলামাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকি। প্রতিটি ইউনিয়নে আমার আট থেকে ১২ জন ইমাম এবং ধর্ম শিক্ষক আছেন। তাদের মাধ্যমে আমার একটা নেটওয়ার্ক আছে।”
এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মসজিদগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন বলে উল্লেখ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক।

পাকিস্তানি নারীর সাথে দেখা করতে গিয়ে আটক ভারতীয় যুবক


Image copyrightROBIN SINGH
Image captionভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত

ভারতের মুম্বই থেকে তিন বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক ইঞ্জিনিয়ারকে খুঁজে পাওয়া গেছে পাকিস্তানের জেলে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেদেশের একটি আদালতে তার বিচার করছে।
নেহাদ হামিদ আনসারি নামের ওই যুবকের পরিবার জানিয়েছেন, তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে তাদের ছেলে বেঁচে রয়েছে পাকিস্তানে।
তবে জিনাত শেহজাদী নামের যে পাকিস্তানি নারী সাংবাদিক মি. আনসারির খোঁজ করছিলেন,তাকে গত বছরের অগাস্ট মাস থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মুম্বইতে নেহাদ আনসারির মা ফৌজিয়া আনসারি জানিয়েছেন, “নেহালকে খুঁজে পাওয়া গেছে জেনে যে কি ভাল লাগছে আমাদের! তবে একইসঙ্গে মেয়ের মতো জিনাতকেও যদি তার মা ফিরে পেতেন!”
নেহাদ আনসারির পরিবার সূত্রে জানা গেছে ওই যুবক ইঞ্জিনিয়ার আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন কাজের সূত্রে।
সেখান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাকিস্তানের কোহাট প্রদেশের এক নারীর সঙ্গে আলাপ হয় নেহাদের।
তারপর সীমান্ত পেরিয়ে তিনি ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে কোহাটের একটি হোটেলে উঠেছিলেন।
সেখান থেকেই সেনা ও গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেন নেহাদকে।
তারপর থেকেই তার পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয় নি।
নেহাদের পরিবার পুলিশ ও আফগানিস্তানের দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন।
তিনি যে এক পাকিস্তানী নারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, সেটা জানা যায় তার সামাজিক যোগাযোগ রক্ষাকারী সাইটগুলিতে খোঁজ চালিয়ে।
তারপরেই পাকিস্তানের আদালতে ছেলের খোঁজ চেয়ে আবেদন করেন মিসেস আনসারি।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে নেহাদ তাদের হেফাজতে আছেন এবং সেনা আদালতে তার বিচার হবে।
ওই মামলাটির ১৮ মাস ধরে শুনানি হওয়ার পরে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নেহাদের হেফাজতে থাকার কথা স্বীকার করল।
তবে ঠিক কী অভিযোগে নেহাদ হামিদ আনসারির বিচার চলছে, তা পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬

স্কুলে বেতন বৃদ্ধি: অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ

Image captionঅভিবাবকদের অভিযোগ, অস্বাভাবিকভাবে নামী বেসরকারি স্কুলগুলোয় বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে
বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেকগুলো নামী বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের শুরুতে বেতন ও ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন অভিভাবকরা। তারা বলছে বেতন স্কেলের দোহাই দিয়ে ফি বৃদ্ধি তারা মেনে নেবেন না।
স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানোর জন্য ফি বৃদ্ধি করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, নীতিমালা না মেনে ভর্তি ফি ও বেতন বাড়ানোর অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে ঢাকার সুপরিচিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজকে।
তবে শুধু এ স্কুলটিই নয়, বছরের শুরুতেই ফি ও বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে ঢাকার প্রায় সব নামী বেসরকারি স্কুল। আর এর বিরুদ্ধে এখন আন্দোলনে নেমেছেন অভিভাবকরা। পালন করছেন নানা কর্মসূচি।
একজন অভিভাবক বলেন আমার মেয়ে স্ট্যান্ডার্ড সিক্স এ পড়ে। গত বছরের তুলনায় এবার ২/৩ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
আরেকজন বলেন তার দুই সন্তান নার্সারিতে পড়ে, তাদের বেতন ১৫শ থেকে ২৫শ করা হয়েছে।
Image copyrightGetty
Image captionকর্তৃপক্ষ বলছে, এভাবে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ নেই
তবে অভিভাবকদের এসব বক্তব্যের জবাবে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন বলছেন, ৩৯৮ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা, যারা এমপিও ভুক্ত নন বলে সরকারি অর্থ পাননা, তাদের বেতন ভাতা যোগাতেই ৪৯শতাংশ ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তার মতে এটি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে ভিকারুননিসা স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুদীপ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, সরকার নতুন বেতন স্কেল দিয়েছে বলে সবার ওপর অতিরিক্ত বেতন চাপিয়ে দেয়াটা অন্যায়।
তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি স্কুলের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন। তার ব্যক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন বেতন ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ওদিকে ঢাকার স্কুল গুলোর মতো বেতন বা ফি বাড়ানো হয়েছে চট্টগ্রামের স্কুলগুলোতেও। সেখানকার সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত একটি স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিখা রানী বলছেন সেখানে ফি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
তিনি জানান তার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৭৫ টাকার বেতন ১৫০ টাকা এবং ভর্তি ফি ১৬শ টাকার জায়গায় করা হয়েছে ২৬শ টাকা।
অভিভাবকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনের কাছে।
তিনি বলেন সব পর্যালোচনা করে শিক্ষার গুনগত মান বাড়াতে বেতন একটু বাড়ানো হয়েছে।
তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন বলছেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরে গিয়ে এভাবে বেতন ভাতা বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। যারা এগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, উইলস লিটল ফ্লাওয়ারকে শোকজ করা হয়েছে, ভিকারুননিসা স্কুলও পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাতে করে কোন স্কুলই নীতিমালার বাইরে গিয়ে বেশি ফি আদায় করতে পারবে না।

ভারতে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের পর নির্যাতিতার আত্মহত্যা

Image copyrightThinkstock
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে এক মধ্যবয়সী নারীকে গণধর্ষণ করে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পর ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে তার স্বামী জানিয়েছেন, রবিবার রাতে তাকে গণধর্ষণ করা হয় আর মঙ্গলবার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের গ্রামে। বিকেলে ওই নারী বিষপান করেন।
মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও গত দুদিন ধরে ধৃতদের কঠোরতম শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবীতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এলাকার মানুষ।
উত্তর প্রদেশের মুজফফরনগরের ছাপড়া গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওই নারী একজন গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহায়িকা।
তাঁকে রবিবার রাতে গ্রামেরই এক ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যান এক আত্মীয়ার প্রসবের সময়ে। তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে ওই ব্যক্তি এবং তার আরও তিনসঙ্গী গণ ধর্ষণ করে এবং গোটা ঘটনার ভিডিও করে রাখে।
মূল অভিযুক্ত মঙ্গলবার ওই ভিডিওটি গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় নির্যাতিতাকে। বিকেলে মধ্যেই সেটি সত্যিই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জানার পরে আত্মহত্যা করেন ওই নারী।
মুজফফরনগরের শহরাঞ্চলীয় পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট প্রদীপ গুপ্তা টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় যেটা অপরাধ, সেটাই করা হয়েছে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে। দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি আইনেও অভিযোগ জমা নেওয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সাহিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে। বাকি তিন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
এই ঘটনা সামনে আসার পরে সেখানে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। দুদিন ধরে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধও করা হয়েছিল। স্থানীয় মানুষরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারী, কঠোর শাস্তি, নির্যাতিতার স্বামী সরকারী চাকরী প্রভৃতি দাবী তুলেছেন। পুলিশ সুপার বলছেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে
মি. গুপ্তা বলছেন, "এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। ময়না তদন্ত হয়ে গেছে, মৃতার সৎকারও হয়ে গেছে, মূল অভিযুক্তও ধরা পড়েছে। তাই এখন উত্তেজনা প্রায় নেই। ওই গ্রামে কিছু পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। তবে উত্তেজনা তো গ্রামের মানুষ তৈরি করেন নি, উস্কানি দেওয়া হয়েছিল।"
ভারতে ভিডিও ক্যামেরাসহ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার গ্রাম গঞ্জে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কয়েকবছর ধরে। একই সঙ্গে বাড়ছে ওই ধরণের ফোন ব্যবহার করে অপরাধও।
ধর্ষণকারীরা অনেক ক্ষেত্রেই ওই অত্যাচারের ঘটনা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখছে। কখনও ব্ল্যাকমেইল করার জন্য অথবা পুলিশের কাছে অভিযোগ না জানানোর হুমকি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ওই ভিডিও ক্লিপিং।
তবে হোয়াটস্অ্যাপ বা এমএমএসের মাধ্যমে সত্যিই তা ছড়িয়ে দিয়ে ধর্ষিতার ওপরে আবারও নির্যাতনের মতো পাশবিক ঘটনাও সামনে আসছে মাঝে মাঝেই।

বিমানবন্দরের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তাব


Image captionবাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নতুন একটি বাহিনী গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে
বাংলাদেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার।
সম্প্রতি মিশরে একটি রাশিয়ান বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম।
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানিয়েছেন, নতুন বাহিনী তৈরি করার আগে তারা পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন বাহিনী থেকে লোকবল নিয়ে একটি নিরাপত্তা দল গঠন করতে যাচ্ছে।
বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন এ বাহিনীর নামকরণ হতে পারে এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স।
এজন্য জনবলের অনুমোদন চেয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কিন্তু সেটি এখনো অনুমোদন হয়নি।
এই বাহিনী গঠন না করার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাড়নোর লক্ষ্যে ভিন্ন আরেকটি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পুলিশ, আনসার এবং বিমান বাহিনী থেকে লোকবলের সমন্বয়ে ১০০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হচ্ছে। আগামী কয়েকমাস এই দলটির কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। তার উপর ভিত্তি করে এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে।
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বর্তমানে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন তার বাইরে এই টিম কিভাবে করে সেটি সরকার দেখতে চাইছে।
সম্প্রতি মিশরের শার্ম আল শেইখ-এ রাশিয়ান একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে সেই বিমানের কার্গো হোল-এ বোমা রাখা ছিল।
Image captionমিশরে একটি রাশিয়ান বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম
এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরা। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করে।
বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলছেন বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি আছে ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরা সেটি বাংলাদেশকে জানিয়েছে।
এরপর জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিমান চলাচল এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখানকার রেকর্ড এখনো পর্যন্ত খুবই ভালো।
কিন্তু সম্প্রতি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন নারী কোন বোর্ডিং পাস ছাড়াই অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ফ্লাইটে উঠে বসে। এ ঘটনায় তুমুল শোরগোল শুরু হয়।
বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সাবেক প্রধান এবং এয়ার কমোডোর (অব.) ইকবাল হোসেন বলেন যাত্রী এবং মালামাল তল্লাশির ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা রয়েছে।
সেজন্য দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করেন মি: হোসেন।
এদিকে বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, ইতোমধ্যে বিমানবন্দরে নতুন স্ক্যানিং মেশিন বসানো, যাত্রী তল্লাশি জোরদার এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

শিশুটির শেষ ইচ্ছা পূরণ করছে চীনের বাসিন্দারা

Image copyrightFacebook
Image captionডোরিয়ান মারে
আমেরিকার মৃত্যুপথযাত্রী একটি শিশুর চীনে ‘বিখ্যাত’ হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে শুরু করেছে চীনের বাসিন্দারা।
ক্যান্সার আক্রান্ত ডোরিয়ান মারের শেষ ইচ্ছা, সে যেন চীনে পরিচিত হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে বিখ্যাত দেয়াল বা ‘গ্রেট ওয়াল’ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের বাসিন্দা, এখন ৮ বছরের ডোরিয়ান ৪ বছর বয়স থেকেই ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছে। কিন্তু এখন সে চিকিৎসা নেয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি, ডোরিয়ানের জন্য তৈরি করা ফেসবুক পাতায় তার বাবা লিখেছে, ডোরিয়ান একরাতে জানায়, স্বর্গে যাবার আগে তার শেষ ইচ্ছা, সে যেন গ্রেট ওয়ালের দেশ চীনে ‘বিখ্যাত’ হয়ে ওঠে।
এরপরই চীনের বাসিন্দা আর অন্য দেশের বাসিন্দাদেরও ডোরিয়ানেরর জন্য ছবি তুলে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয় ওই বার্তায়।
যাতে ডোরিয়ান বুঝতে পারে যে, সে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
Image copyrightfacebook
Image captionডোরিয়ানের জন্য ছবি তুলে সমর্থন জানিয়েছে চীনের পত্রিকায় চায়না ডেইলির কর্মীরাও
Image copyrightchina daily
Image captionডোরিয়ানের জন্য ছবি তুলে পাঠাচ্ছেন চীনের বাসিন্দারা
চীনে ফেসবুক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও, ডোরিয়ানের বাবা-মায়ের এই আবেদন দেশটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন চীনের হাজার হাজার বাসিন্দা ছবি তুলে তার সঙ্গে শেয়ার করছে।
চীনের বাসিন্দারা মহাপ্রাচীর বা গ্রেট ওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে শেয়ার করছে। নিজের বাসা বা রাস্তার সামনে দাঁড়িয়েও ছবি তুলছেন অনেকে। অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একসঙ্গে ছবি তুলে তাকে পাঠাচ্ছে।
চীন ছাড়াও অন্যান্য দেশের বাসিন্দারাও ছবি তুলে তাকে পাঠাচ্ছে।
এসব ছবিতে #D-STRONG বা ডোরিয়ানের জন্য শক্তি সূচক ট্যাগ যোগ করা হচ্ছে, যাতে ডোরিয়ান সহজেই ছবিগুলো দেখতে পারে।
চীনের ক্ষুদ্র বার্তার সাইট, ওয়েইবোতে হাজার হাজার মানুষ তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে।