সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ভারতের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ?

jnu
Image captionরাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে জেএনইউ ছাত্র সমিতির প্রেসিডেন্টের গ্রেপ্তারে প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন দিল্লির জওহারলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ চলছে এবং তাতে মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা।
জেএনইউ ক্যাম্পাসে কাশ্মীরী জঙ্গিদের পক্ষে প্রকাশ্যে শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে -- এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই ভারতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পাঁচদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমিতির প্রেসিডেন্ট কানহাইয়া কুমারকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সেই আটক নিয়ে ভারতের অন্যতম শীর্ষ ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন যে ছাত্র বিক্ষোভ চলছে, সে প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিং বলেন জেএনইউতে দেশ-বিরোধী তৎপরতা চলছে।
মি সিং বলেন, ‘‘দেশকে এই বাস্তবতাটা বুঝতে হবে যে লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সাঈদেরও জেএনইউয়ের ঘটনায় সমর্থন ছিল। দেশের সব রাজনৈতিক দলের উচিত এর বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিবাদ করা – কারণ দেশের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক কিছু হতে পারে না।’’
কানহাইয়াImage copyrightFACEBOOK
Image captionজওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সমিতির প্রেসিডেন্ট কানহাইয়া কুমার। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
বিতর্কিত ভিডিও
ভারতে বামপন্থী ও উদার চিন্তাধারার সবচেয়ে বড় পীঠস্থান বলে পরিচিত জেএনইউ ক্যাম্পাসে ২০০১য়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ফাঁসি-হওয়া আফজাল গুরুর সমর্থনে প্রকাশ্যে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে --এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও দাবি করছে, ওই ভিডিওতে যেভাবে কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে এবং ‘ঘরে ঘরে আরও আফজাল গুরু জন্মাবে’ বলে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে – তারপর ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে দিল্লি পুলিশ কোনও ভুল করেনি।
ওই ভিডিওতে উমর খালিদ-সহ জেএনইউ-র কয়েকজন ছাত্রকে চিহ্নিতও করা হয়েছে, এবং ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বামপন্থী ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে, যিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টও।
জেএনইউImage copyrightPTI
Image captionজেএনইউ ক্যাম্পাসে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি'র বিক্ষোভ।
বিজেপির চক্রান্ত?
তবে ক্যাম্পাসের বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, এই ভিডিও তাদের ফাঁসানোর জন্যও তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে – কারণ ওই ছবিতে এমন বেশ কিছু ছাত্রকে ভারত-বিরোধী শ্লোগান দিতে দেখা গেছে যারা বিজেপির ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পরিচিত সদস্য বলেই তাদের দাবি।
একই সন্দেহ প্রকাশ করে বামপন্থী দল সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও বলেছেন ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটা জাল কি না, আগে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল।
তার বক্তব্য, ‘‘যেহেতু সেখানে বিজেপির ছাত্র শাখারও বেশ কিছু মুখ দেখা যাচ্ছে তাই গোটা ব্যাপারটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে কি না সেটা দেখতে হবে। মাত্র দু-সপ্তাহ আগে জেএনইউ-তে বিজেপি তাদের নিজের লোককে উপাচার্য করে এনে বসিয়েছে – তারপরই হয়তো ব্যাপারটা এভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ক্যাম্পাসে হস্তক্ষেপ করার পথ প্রশস্ত হতে পারে।’’
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিরোধী রাজনীতিকদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে।
কানহাইয়া কুমারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে যে ছাত্ররা আন্দোলন করছেন, শনিবার রাতে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান কংগ্রেস বাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীও।
সেখানে ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘সরকার বুঝতে পারছে না তোমাদের গুঁড়িয়ে দিতে গিয়ে তোমাদেরই তারা আরও শক্তিশালী করে তুলছে। দেশ-বিরোধী ছাত্ররা নয়, বরং যারা তাদের কন্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চায় দেশ-বিরোধী তারাই।’’
বিরোধীদের এই সম্মিলিত চাপের মুখেও সরকার কিন্তু এখনও তাদের অবস্থানে অনড়। এমনকী, ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভার দিল্লি পুলিশ এখন তাদের সন্ত্রাস-দমন শাখার হাতেও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০,০০০ কোটি টাকার মামলা

anam
Image captionডজনখানেক মানহানির মামলার শিকার হয়েছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
বাংলাদেশে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে নতুন ১০টি মানহানির মামলায় কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
২০০৭-০৮ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের সময় ছাপা খবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানহানির অভিযোগে ঢাকা, সিলেট, রাঙামাটি, শরিয়তপুর সহ মোট নটি জেলায় এই মামলাগুলো হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা একটি মামলায় ১০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে বলে ডেইলি স্টারের একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন। মামলাটি করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রজন্ম লীগের একজন নেতা।
পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর সিলেটের দুই ছাত্রলীগ নেতার করা দুটো মামলায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
মামলাকারীদের একজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই ছাত্র সংগঠনের সিলেট মহানগর সমিতির প্রেসিডেন্ট আব্দুল বাসিত রুম্মন। বাদীদের অন্যজন স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার।
দুটো মামলাই হয়েছে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ নূর জানিয়েছেন, মামলা দুটো গ্রহণ করে আদালত সমন জারী করেছে অর্থাৎ মাহফুজ আনামকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে খুলনা এবং লক্ষ্মীপুরেও মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একই ধরণের দুটো মামলা হয়েছে। ঐ মামলা দুটোও করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা।
সম্প্রতি টেলিভিশনে এক আলোচনায় মাহফুজ আনাম বলেন, ২০০৭-০৮ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনা গোয়েন্দাদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই না করেই তারা ছেপেছিলেন। মি আনাম বলেন, তার এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এজন্য তিনি দু:খিত।
এই স্বীকারোক্তির পর থেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল থেকে মাহফুজ আনামের শাস্তি দাবি করা হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডেইলি স্টার সহ বিভিন্ন মিডিয়াতে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া সহ অনেক শীর্ষস্থানীয় অনেক রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের খবর ছাপা হয়েছিল। সেনাবাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এসব খবর সরবরাহ করতো বলে বিতর্ক রয়েছে।

ইরান ও সৌদি বিরোধে সুইজারল্যান্ডের দুতিয়ালি

সৌদি আরব, ইরান
সৌদি আরবের পক্ষে ইরানে কনস্যুলার অর্থাৎ ভিসা ও ভ্রমণ বিষয়ক সেবা দেবে সুইজারল্যান্ড।
সম্প্রতি সৌদি এক শিয়ার নেতার শিরোচ্ছেদ এবং প্রতিক্রিয়ায় তেহরানে সৌদি দূতাবাসে আগুন দেওয়ার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে বিচ্ছিন্ন।
কিন্তু হজ-উমরাহ পালনে যাতে ইরানিরা আসতে পারে, সেজন্যই সৌদি আরবের পক্ষে কাজ করার সুইজারল্যান্ডের এক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদের আল জুবের আজ (রোববার) জানিয়েছেন সৌদি আরবের পক্ষে ইরানে কিছু কূটনৈতিক কাজ করতে সুইজারল্যান্ড প্রস্তাব দিয়েছে। "আমরা সেই প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করেছি।"
তবে ইরানের সাথে বিরোধ মেটাতে সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতা করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে সৌদি আরবে ইরানের কিছু কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখার এক প্রস্তাব সুইজারল্যান্ড তেহরানকেও দিয়েছে।
অন্য দেশের হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সুইজারল্যান্ডের রয়েছে।
তেহরানে বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দুতাবাস নেই। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ হয়ে ইরানে মার্কিন নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধে দেয় সুইজারল্যান্ড ।

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বহিস্কারের ভয়ে আশ্রয়প্রার্থী শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ছেন না অস্ট্রেলিয়ার ডাক্তাররা

Image copyrightReuters
Image captionএক বছরের শিশুটিকে আশ্রয় দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ
অস্ট্রেলিয়ার এক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে শিশুটির। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে।
ডাক্তাররা তাই হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়ছে না।
আর শিশুটিকে যেন বহিস্কার করা না হয় সেই দাবিতে হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়েছে শত শত বিক্ষোভকারী।
ব্রিসবেনের লেডি সিলেনটো হাসপাতালের ডাক্তাররা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এক বছর বয়সী মেয়ে শিশুটির জন্য একটি নিরাপদ থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়া না যাচ্ছে ততক্ষণ হাসপাতালেই থাকবে সে।
এক বছর বয়সী মেয়েটির বাবা-মা অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রার্থী। নাউরু দ্বীপের এক ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকার সময় মেয়েটি মারাত্মকভাবে আগুনে দগ্ধ হয়।
তারপর তাকে অস্ট্রেলিয়ার এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য।
অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রশান্তমহাসাগরীয় নাউরু দ্বীপে আটকে রাখার যে নীতি নিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে যারা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে চায়, তাদের বিরত রাখতে এই ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে বলে দাবি করছে অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বে আরেকটি স্নায়ু যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে!

Image copyrightReuters
Image captionমেডভিয়েডেফ: বিশ্বকে আরেকটি স্নায়ু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব বিশ্বকে এক নতুন স্নায়ু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেডভিয়েডেফ।
তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়াকে সবচেয়ে জঘন্য হুমকি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে রাশিয়া নাকি নেটো, আমেরিকা এবং ইউরোপের জন্য হুমকি।
তিনি নেটোর প্রধান হেন্স স্টোলটেনবার্গ এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কথা উল্লেখ করেন যেগুলোতে দেখানো হয়েছে রাশিয়া পরমাণু যুদ্ধ শুরু করেছে।
“অনেক সময় আমার মনে হয় এটা কি ২০১৬ সাল নাকি আমরা ১৯৬২ সালে আছি।”
উল্লেখ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কমিউনিষ্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের যে দীর্ঘ কয়েকদশকব্যাপী দ্বন্দ্ব এবং উত্তেজনা চলেছে, তাকে স্নায়ু যুদ্ধ বলে বর্ণনা করা হয়।
রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সর্বশেষ দফা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে সিরিয়া নিয়ে।
Image copyrightGetty
Image captionস্নায়ুযুদ্ধের সময় দেয়াল তুলে ভাগ করে ফেলা হয়েছিল বার্লিন নগরী
রাশিয়া সমর্থন করছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ নেটো জোট সমর্থন করছে আসাদ বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে।
সিরিয়ার রুশ বিমান হামলা বেসামরিক প্রাণহানির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটাও জোর গলায় অস্বীকার করেছেন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেডভিয়েডেফ।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিরিয়ায় বিমান হামলার নীতি থেকে সরে আসার জন্য।
তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া বেশিরভাগ হামলাই চালাচ্ছে সিরিয়ার বৈধ বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে টার্গেট করে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করা যাবে না।

পাকিস্তানে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন না করতে প্রেসিডেন্টের আহ্বান

Image copyrightEPA
Image captionভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন পাকিস্তানেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন ভ্যালেনটাইন’স ডে পালন না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা জানাচ্ছে, ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এই আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের সংস্কৃতির সঙ্গে ভ্যালেনটাইন্স ডে’র কোন সম্পর্ক নেই। কাজেই এটিকে পরিহার করতে হবে।
উল্লেখ্য এর আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলায় ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ উদযাপন নিষিদ্ধ করা হয়।
পেশাওয়ারের কাছে কোহাট জেলার কর্তৃপক্ষ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন দোকানপাটে যেন ভ্যালেন্টাইন কার্ড এবং কোন রোমান্টিক জিনিসপত্র বিক্রি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে।
কেন তারা এই পদক্ষেপ নিলেন এর কোন কারণ অবশ্য জেলা কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেননি।
কট্টর ইসলামপন্থীরা কোহাট জেলার ক্ষমতায় আছে।
এর আগে পাকিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থীরা ভ্যালেনটাইন’স ডে পালনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এই বলে যে, এটি পাকিস্তানী সংস্কৃতির পরিপন্থী।
Image captionভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ
পাকিস্তানেও সম্প্রতি ভ্যালেন্টাইন ডে পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ উপলক্ষে দোকানপাটে কার্ড, চকোলেট এবং অনেকধরণের জিনিসপত্র বিক্রি হয়।

ব্যাংকের বুথ থেকে গ্রাহকের টাকা উধাও!


.
একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম কার্ডধারী অন্তত ২১ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সব ব্যাংকের জন্য সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংক তাদের নিজস্ব এটিএম বুথ ছাড়া অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তোলার সুযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। 
বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল তাদের ২১টি গ্রাহক হিসাব থেকে অন্য কেউ টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারা দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করে। তারা নিজেদের এটিএম কার্ড সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে সাইবার সন্ত্রাস, নাকি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই টাকা উধাওয়ের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 
ভুক্তভোগী একজন গ্রাহক অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সহকারী সম্পাদক মাহাবুবা আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইবিএল থেকে তিনি ব্যাংকিং সেবা নিয়ে থাকেন। সাধারণত ব্যাংক থেকে টাকা তুললে তিনি মুঠোফোনে খুদে বার্তা পান। গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি মুঠোফোনে এ রকম দুটি খুদে বার্তা পেয়েছেন, যাতে বলা হয় রোকেয়া সরণিতে অন্য একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে দুবারে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু তাঁর এটিএম কার্ডটি বাসাতেই তাঁর কাছে আছে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো খুদে বার্তাটি ভুলভাবে এসেছে। এরপর ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করে দেখেন সত্যিই ৮০ হাজার টাকা কম। এরপর তিনি ইবিএলের গ্রাহকসেবা বিভাগে অভিযোগ করেন। তখন তাঁকে জানানো হয়, এ রকম ঘটনা আরও কয়েকজনের সঙ্গেই ঘটেছে। গ্রাহকসেবা বিভাগের পরামর্শে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কার্ডে লেনদেন বন্ধ করে দেন মাহাবুবা। 
মাহাবুবা আরও বলেন, ইবিএল থেকে তিনি একসঙ্গে ২০ হাজারের বেশি টাকা তুলতে পারতেন না। কিন্তু তাঁর হিসাব থেকে দুবারে ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে গতকাল। এ বিষয়ে গ্রাহকসেবা বিভাগ তাঁকে বলেছে, ১ হাজার টাকার নোট হলে একবারে ৪০ হাজার টাকা ওঠানো সম্ভব।
যোগাযোগ করা হলে ইবিএলের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল ২১ জন গ্রাহক তাঁদের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা সাইবার আক্রমণ, না তাঁদের সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমস্যা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 
জিয়াউল করিম বলেন, অভিযোগগুলো পাওয়ার পরে প্রথমে টাকা উত্তোলনের পরিমাণ (উইথড্র লিমিট) কমিয়ে ২০ হাজার করা হয়। এরপরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুপুরের দিকে অনলাইনে লেনদেনের ব্যবস্থা ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের (এনপিএস) লিঙ্কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিজস্ব সিস্টেমও বন্ধ করে দেয় ইবিএল। এর ফলে এটিএম বুথগুলো থেকে গ্রাহকেরা আর টাকা তুলতে পারেননি। কয়েক ঘণ্টা এটিএম লেনদেন বন্ধ থাকার পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আবারও বুথগুলো চালু করা হয়। তিনি বলেন, যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। 
আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে জিয়াউল করিম বলেন, একেকটি হিসাব থেকে দিনে এক লাখের বেশি টাকা তোলা যায় না। যার ফলে সব মিলিয়ে খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণটা খুব বেশি হবে না। তিনি দাবি করেন, ইবিএলের বুথ থেকে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ইবিএলের কার্ডে ভিসা সুবিধা যুক্ত থাকায় অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথেও এই কার্ড ব্যবহার করা যায়। অন্য ব্যাংকের বুথ থেকেই জালিয়াতিটা হয়েছে। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা প্রথম আলোকে বলেন, এটা সাইবার আক্রমণ, নাকি প্রযুক্তিগত সমস্যা—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তদন্ত করে এটা বের করার পরে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করবে এবং সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে। 
শুভঙ্কর সাহা বলেন, দেশে প্রায় ৯০ লাখ এটিএম কার্ডের গ্রাহক রয়েছেন। গতকাল কী কারণে একটি ব্যাংকের গ্রাহকদের এ সমস্যা হলো, তা দেখার বিষয়। যদি ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচে সমস্যা হয়, তাহলে কার কী দায়, তা নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। আবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে কোনো সমস্যা হলে তাও বের করা যাবে। তবে ইবিএলকে অবশ্যই গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এটা সাইবার আক্রমণ, নাকি প্রযুক্তিগত সমস্যা—এ বিষয়ে শুভঙ্কর সাহা বলেন, না দেখে কিছুই বলে যাবে না।