ছোট্ট একটি নৌকা চালিয়ে এই প্রথম একজন ব্রিটিশ নাগরিক উত্তর অ্যামেরিকা থেকে যাত্রা শুরু করে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে পৌঁছেছেন।
এই ব্যক্তির নাম জন বিডেন, বয়স ৫৩।
প্রশান্ত মহাসাগরে এই পথ পাড়ি দিতে তার সময় লেগেছে ২০৯ দিন।
তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন ১লা জুন, সান ফ্রান্সিসকো থেকে।
প্রতিদিন তিনি গড়ে ১৫ ঘণ্টা নৌকা চালিয়েছেন।
তিনি ভেবেছিলেন, আরো কয়েক সপ্তাহ আগেই অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় কেয়ার্নসে গিয়ে পৌঁছে যাবেন।
কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তার এই বিলম্ব হয়েছে। চার বছর আগে মি. বিডেন পাড়ি দিয়েছিলেন আটলান্টিক মহাসাগর।
তিনি বলেন,“প্রথমবারের মতো এধরনের একটা কাজ করতে পেরে আমি খুবই খুশি।”
শেফিল্ড শহরে বেড়ে উঠলেও বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন কানাডায়।
তার স্ত্রী বলেছেন, “ও একজন দারুণ মানুষ। অন্যদের চেয়ে তিনি একেবারেই আলাদা। সবসময় তিনি নতুন একটা কিছু করতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান।”
“আমি সবসময় মনে করেছি যে তিনি সফল হবেন। শুধু একটু বেশি সময় নিয়েছে। তবে আমি খুশি যে সে নিরাপদে বাড়িতে ফিরেছে।”
ইরাকি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রামাদি শহরে ইসলামিক স্টেট জঙ্গী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের পুনর্দখল নিয়েছে তারা।
রামাদিতে এটিই ছিল আইএস জঙ্গিদের সর্বশেষ ঘাঁটি, যেখান থেকে তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই করে আসছিল।
তবে, এই ভবনের নানান জায়গায় জঙ্গীরা বোমা পুঁতে রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আশপাশের এলাকা থেকে আইএস এখনও প্রতিরোধ করে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ইরাকি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেই সরকারি ভবনটির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতেই রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই ভবনে আইএস সদস্যদের এখন কোনও চিহ্নই নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে, আশপাশের বিভিন্ন ছোট ছোট এলাকায় থেকে আইএস এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
গত বেশ কিছুদিন ধরেই রামাদি পুনর্দখলের জন্য লড়াই করে আসছিল সরকারি বাহিনী।
বিবিসির বাগদাদ সংবাদদাতা টমাস ফেসি জানিয়েছেন, রামাদি শহর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারি এই ভবনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাগদাদ থেকে মাত্র ৫৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত সুন্নী অধ্যুষিত এই শহরটি গত মে মাসে আইএস-এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যা ইরাকি সেনাবাহিনীর জন্য একটি বিব্রতকর পরাজয় হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকি বাহিনী সামনে এগিয়েছে এবং আইএস-এর কাছ থেকে বিভিন্ন জায়গার পুনর্দখল নিয়েছে।
বাংলাদেশে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, প্রায় ২০০ রাউন্ড গুলি এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।
সেনাবাহিনীর পোশাকও পাওয়া গেছে ঐ বাড়িতে।
গোয়েন্দা পুলিশ ধারণা করছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা এই বাড়িটিকে তাদের আস্তানা বানিয়েছিল।
অভিযানের সময় অবশ্য বাড়িতে কেউ ছিল না।
বাংলাদেশে জঙ্গিদের কাছ থেকে স্নাইপার রাইফেল উদ্ধারের ঘটনা বিরল।
সেই সাথে সেনা পোশাক পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ওই বাড়ি থেকে স্নাইপার রাইফেল ও সেনা পোশাক ছাড়াও রিমোট ডিটোনেটর, বেশ কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি আস্তানা।
চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার বলছেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ঐ বাড়িটির সন্ধান পেয়েছেন তারা।
সেখানে সেনাবাহিনীর পোশাকের সাথে মেজর পদবীর ব্যাজও পাওয়া গেছে। তিনি বলেছেন, “মেজরের ব্যজ পাওয়া গেছে ইউনিফর্মের সাথে। তারা যে কোন ভাবেই হোক এটা সংগ্রহ করেছে।”
বাংলাদেশে স্নাইপার রাইফেল উদ্ধারের বিষয়টি বেশ বিরল বলে উল্লেখ করে মি আক্তার বলেছেন, “অস্ত্রটির গায়ে লেখা আছে এমকে ডাবল ওয়ান। এধরণের স্নাইপার রাইফেল পাওয়ার খবর আমি আগে কখনো দেখিনি।”
ইন্টারনেটে এই স্নাইপার রাইফেলটি নিয়ে একটু গবেষণা করে দেখা গেলো তার সাথে চট্টগ্রামের পাওয়া অস্ত্রটির ছবির কোনো মিল নেই।
সেনিয়ে মি আক্তার জানান, এটি পুরনো ধরনের এমকে ইলেভেন। সেনিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে তিনি আলাপও করেছেন।
গত ছ’মাস ধরে এই বাড়িটিকে একজন ভাড়া নিয়েছিলো বলে জানা গেছে। তবে অভিযানের সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলো না।
মি আক্তার জানিয়েছেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ।
“এদের একজনের বাড়ি মহেশখালী, একজনের ফেনি আর একজনের বাড়ি কুড়িগ্রামে। এদের বয়স চব্বিশ পঁচিশের মতো। এরা সবাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে।” পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে একটি কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সক্রিয় ১৬ টি গ্রেনেড, বিপুল পরিমাণ বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও সুইসাইড ভেস্ট উদ্ধার করে।
সেখানে এগুলো বানানোর একজন প্রশিক্ষকও ছিলো বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে পুলিশ মিরপুরের ঐ বাড়িটিকে 'বোমা তৈরির কারখানা' বলে জানায়।
এই অভিযানের মাত্র চারদিনের মাথায় হলো নতুন এই অভিযান।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রব খান বলেছেন, সেনা পোশাক উদ্ধার আর তা ব্যবহারের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কি সেটি বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, “ঢাকার কাফরুলে আর্মড পুলিশ ব্যটালিয়ন যেখানে পাহারা দিচ্ছিলো সেখানে আক্রমণ হয়েছে। আর চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর সুরক্ষিত এলাকায় দুটি মসজিদে হামলা হয়েছে। সেখানেই উদ্বেগের বিষয়। কারণ সেনাবাহিনীর পোশাককে ক্যামোফ্লাজ হিসেবে ব্যবহার করে যদি তারা ক্যান্টনমেন্ট বা সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালায় তা অত্যন্ত ভয়ের ব্যাপার হবে।”
“এর আগে সেনাবাহিনীর পোশাকের ব্যাপারটি দেখিনি। এখন হয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরীক্ষা করে দেখবেন এগুলো আসল না নকল। কিন্তু যেটাই হোক তাদের কি ইচ্ছা ছিলো সেটা সেটাই উদ্বেগের বিষয়।”
মি খান বলছেন, সবমিলিয়ে জঙ্গিদের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন মাত্রার মুখোমুখি হচ্ছে। শাহনাজ পারভীন বিবিসি বাংলা, ঢাকা
গত কয়েক বছরের মতো ২০১৫ সালেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা এবং ভুল বিভিন্ন ছবি খুজে বের করা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।
২০১৫ সালে অনেক ছবি এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, আদতে যেগুলো ছিল মিথ্যা এবং ভুল।
ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ছবি তৈরি করা হয়েছে, কখনো কখনো সদ্য পাওয়া খবরের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে যেখানে খবরের সাথে সম্পর্ক নেই এমন ছবিও বহুবার শেয়ার করা হয়েছে ইন্টারনেটের সামাজিক মাধ্যমে।
আপনি কি এসব মিথ্যার জালে ধরা পড়েছিলেন? নেপাল ভূমিকম্পের হৃদয়বিদারক ছবি গত এপ্রিলে নেপাল ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোর একটি এটি।
"নেপালে চার বছরের ভাই তার দুই বছরের বোনকে আগলে রাখছে" এই ক্যাপশনের সাথে ছবিটি ফেসবুক এবং টুইটারে শেয়ার হয়েছে অসংখ্যবার। তবে আসলে ছবিটি তোলা হয়েছে ২০০৭ সালে ভিয়েতনামের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। নেপাল ভূমিকম্পের সময় সুইমিং পুলের ভিডিও ভূমিকম্পের সময় ইউটিউব এবং ফেসবুকে কাঠমুণ্ডু্র একটি হোটেলের সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ উল্লেখ করে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়।
কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ভূমিকম্পের তীব্রতা দেখাতে গিয়ে ভিডিওটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আদতে এই ভিডিওটি বেশ পুরনো। সম্ভবত: ২০১০ সালে মেক্সিকোতে ভূমিকম্পের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। ইন্সটাগ্রামে ইউরোপে যাওয়ার পথ বর্ণনা করছেন একজন অভিবাসী গত গ্রীষ্মে ইন্সটাগ্রামে একজন অভিবাসীর সেনেগাল থেকে স্পেনে যাত্রার ছবি আসতে শুরু করে।
ডাকারের বাসিন্দা আবু দিউফের এসব সেলফি ইন্টারনেটে আলোড়ন তোলে এবং হাজার-হাজার মানুষ তাকে ফলো করতে শুরু করে।
তবে শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে যে এই ছবিগুলো ছিল উত্তর স্পেনের একটি ফটোগ্রাফি উৎসবের প্রচারণা। আইএস যোদ্ধার সাজে শরণার্থী? ইউরোপে শরণার্থী সংকটের সময় এই ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।
"এই লোককে মনে পড়ে? গতবছর আইসিসের ছবিতে দেখা গিয়েছিল- এখন সে শরণার্থী" লেখেন একজন।
পরবর্তীতে ছবির এই ব্যক্তিকে লাইথ আল-সালেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়, যিনি বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত মধ্যপন্থী সিরীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠি ফ্রি সিরিয়ান আর্মির একজন কমান্ডার। সিরিয়া থেকে পালিয়ে তিনি ২০১৫ সালের অগাস্টে সিরিয়া থেকে পালিয়ে মেসেডোনিয়ায় পৌছান। ঈগলস অফ ডেথ মেটাল কনসার্টের ছবি নভেম্বরে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর এই খবরকে ঘিরে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুতর কিছু মিথ্যার মধ্যে রয়েছে এই ছবিটি, যেটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার আগে বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে ঈগলস অফ ডেথ মেটালের কনসার্টের ছবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আসলে ছবিটি তোলা হয়েছিল ডাবলিনে ব্যান্ডটির কনসার্টের সময়। প্যারিসের ফাঁকা রাস্তা আত্মঘাতি হামলার পর প্যারিসের ফাঁকা রাস্তার ছবি হিসেবে এই ছবিটি শেয়ার করা হয়।
কিন্তু আসলে এই ছবিটি তোলা হয়েছিল সাইলেন্ট ওয়ার্ল্ড নামের একটি ছবি সিরিজের অংশ হিসেবে। এবং শেষে... এক স্বামীর চরম প্রতিশোধ বিবাহবিচ্ছেদের পর এক জার্মান ব্যক্তি তার সকল সম্পত্তি দুইভাগ করে বিক্রি করছেন এমন একটি খবরে অনেকেই বোকা হয়েছেন। গত জুনে ঐ ছবি দেখে অনেক গণমাধ্যমও প্রতিবেদন করে।
ইউটিউবে প্রায় ৪৫ লাখ বার দেখা হওয়ার পর জার্মান বার এসোসিয়েশন স্বীকার করে যে, তারা তাদের প্রচারণার অংশ হিসেবে মিথ্যা এই গল্পটি বানিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্যের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
পাকিস্তানি এসব সৈন্যকে যুদ্ধের পর আটক করা হয়েছিলো। পরে ত্রিদেশীয় এক চুক্তির আওতায় তাদেরকে বিচার করার শর্তে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
কিন্তু গত ৪৪ বছরেও তাদের কোনো বিচার হয়নি।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে দু’জন রাজনীতিকের ফাঁসি কার্যকর করার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তার সমালোচনা করে বিবৃতি দেওয়া হলে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিচারের বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়।
তদন্ত সংস্থার একজন আইনজীবী তুরিন আফরোজ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালের আইন অনুসারে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকে এবং সে যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেনো বাংলাদেশে তার বিচার করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনেও বলা আছে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা যেকোনো রাষ্ট্রেই হোক না কেনো, অন্য কোনো রাষ্ট্রও তার বিচার করতে পারে। তুরিন আফরোজ বলেন, পাকিস্তানি এই সৈন্যদের বিচার করা যাবে কীনা তার আইনগত বিষয়গুলো তারা বছর দেড়েক আগে বিশ্লেষণ করে দেখেছিলেন। এর মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন মামলায় পাকিস্তানি সৈন্যদের নামও এসেছে।
তিনি জানান, এসব সৈন্যের ব্যাপারে তারা তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।
তিনি বলেন, যখনই তারা পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষীর ব্যাপারে সন্তুষ্ট হবেন তখনই তারা এবিষয়ে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করবেন।
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত বন্দী বিনিময় এক চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সৈন্যদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
তিনি জানান, ওই চুক্তিতে সৈন্যদের পাকিস্তানের মাটিতে বিচারের কথা উল্লেখ করা না হলেও পাকিস্তান সরকার তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবে এরকম সমঝোতা হয়েছিলো।
তবে তিনি এও বলেছেন যে এই চুক্তিটি বৈধ নয়। কারণ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো অপরাধকে কেউ ক্ষমা করতে পারে না। এবং তারপরেও সেধরনের কোনো চুক্তি হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সেটা বাতিল বলে গণ্য হবে।
তুরিন আফরোজ বলেন, বাংলাদেশের সংসদেও ওই আইনটি অনুমোদিত হয়নি। ফলে কোনো আদালত বিচারের সময় ওই আইনটিকে গ্রহণ করতে পারে না।
এই ১৯৫ সৈন্যের মধ্যে এখনও অনেকে বেঁচে আছে বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ধারণা করছে।
তবে তাদের সবাই যে পাকিস্তানে অবস্থান করছে তা নয়, অনেকে অন্য কোনো রাষ্ট্রেও বসবাস করছে।
তাদের কে কোন পদে এবং কোথায় যুদ্ধ করেছে সেসব দলিল তদন্ত সংস্থার হাতে রয়েছে।
উত্তর ইংল্যান্ডে বড়ো ধরনের বন্যায় আক্রান্ত লোকজনকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধার কর্মীরা।
উদ্ধার কাজ চালাতে ইয়র্ক শহরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ওই শহরে বহু বাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ার মুখে। আটকরা পড়েছে শত শত মানুষ।
দেশটির উত্তরের প্রায় সবকটি নদী ফুলে ফেঁপে রেকর্ড লেভেলে গিয়ে পৌঁছেছে। অনেক এলাকাতেই পানি এখনও বাড়ছে।
বিরামহীন বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যায় বহু বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ নেই।
কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচুর বৃষ্টির কারণে ওসব এলাকায় বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসেও।
বন্যা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের আজ এক জরুরী বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
ছবিতে দেখুন বন্যা পরিস্থিতি: ডুবে গেছে শহরের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর বাড়িঘর থেকে লোকজনদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে জরুরি সার্ভিসগুলো কাজ করছে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পানশালা ডুবে গেছে একটি গোরস্থান
১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সেদেশের সিনেমার ইতিহাসে প্রথম সমকামী সম্পর্ক নিয়ে তৈরি ছবি - 'ফায়ার' ।
ছবিটি মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতে শুধু আলোড়নই সৃষ্টি করে নি- ছবিটিকে রীতিমত কলঙ্কজনক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল ।
দীপা মেহেতা পরিচালিত ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন বিশিষ্ট তারকা শাবানা আজমি।
ভারতীয় সিনেমায় তখন জনপ্রিয়তা ও খ্যাতির তুঙ্গে শাবানা আজমী। যখন তিনি ফায়ার ছবিটিতে অভিনয় করছেন তখন ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিনি বিশ বছরের বেশি সময় পার করে দিয়েছেন। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে চার চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।
তবে অভিনয়ের বাইরে নারী অধিকারের একজন প্রবক্তা হিসাবে তখন তিনি কাজ করছিলেন এক বস্তিতে মুসলমান মহিলাদের নিয়ে। তাই ছবিটিতে সমকামী নারীর ভূমিকায় তিনি অভিনয় করবেন কীনা সে ব্যাপারে মনস্থির করতে তিনি কিছুটা সময় নিয়েছিলেন।
সেসময় ভারতীয় সমাজে সমকামিতা নিয়ে কেউ মুখ খুলত না। তিনি ভাবছিলেন ওই ছবিতে কাজ করলে তার সমাজকল্যাণমূলক কাজের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কীনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাহিনিটাই তাকে টানল। তার মনে হল কাহিনিটা খুবই জোরালো এবং এটা বলা দরকার।
শাবানা আজমির মনে হয়েছিল 'ফায়ার' শুধু দুই নারীর সম্পর্কের কাহিনি নয় – 'ফায়ার' ভারতীয় সমাজে মহিলাদের দাবিয়ে রাখার – বিশেষ করে ভারতে মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবার কাঠামোয় বিবাহিত মেয়েদের অবহেলা আর বঞ্চনার কাহিনি।
বিবিসির সঙ্গে এই ছবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন ভারতের সমাজে বহু সমকামী নারী, যারা পুরোপুরি উপেক্ষিত- এই ছবি মুক্তি পাবার পর তাদের অনুভূতি সম্পর্কে মানুষ নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে- ওই নারীরাও এই ছবিতে তাদের কন্ঠ খুঁজে পেয়েছে।
কিন্তু ছবিটিতে অন্তরঙ্গ মূহুর্তের দৃশ্যগ্রহণ করতে হয়েছে অনেক সন্তর্পণে।
মুক্তি পাবার পর ছবিটি নিয়ে উঠেছিল নিন্দার ঝড়। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল নানা মহল।
কট্টর দক্ষিণপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন শিবসেনা একে হিন্দুত্ব বিরোধী ও ভারতীয় সংস্কৃতির বিরোধী বলে সহিংস বিক্ষোভ করেছিল।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিতর্ক ও সংসদে ছবিটি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনার পর ছবিটি সিনেমা হলগুলো থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পুর্নমূল্যায়নের জন্য ছবিটি পাঠানো হয়েছিল ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ডে।
পুর্নবিবেচনার পর ছবিটি আবার দেখানোর জন্য অনুমতি পায় কোনরকম কাটছাঁট ছাড়াই।
শাবানা আজমির কথায় সেটা ছিল ছবিটির জন্য বিরাট বিজয়।
ইতিহাসের সাক্ষীর এই পর্ব পরিবেশন করেছেন মানসী বড়ুয়া।