শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৫

সৌদি ব্লগার পেলেন ইউরোপীয় মানবাধিকার পুরস্কার

 
                     শাখারভ পুরস্কার বিজয়ী সৌদি ব্লগার রাইফ বাদাউই     
           
সৌদি ব্লগার রাইফ বাদাউই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ‘শাখারভ শান্তি পুরস্কার’ পেয়েছেন।
রাইফ বাদাউইকে সৌদি সরকার চাবুক মারার শাস্তি দেয়ার পর তা বিশ্ব জুড়ে ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছিল।
রাইফ বাদাউই যেন শাখারভ শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন সেজন্যে তাঁকে মুক্তি দেয়ার জন্য সৌদী বাদশাহ সালমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ।
ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে মিস্টার বাদাউইকে দশ বছরের জেল এবং এক হাজার দোররা মারার শাস্তি দেয়া হয়।
রাইফ বাদাউইর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ                
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করছেন তাদেরকে শাখারভ শান্তি পুরসাকর দেয়া হয়। সোভিয়েত বিজ্ঞানী এবং ভিন্নমতাবলম্বী আন্দ্রে শাখারভের নামে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
রাইফ বাদাউই ‘ফ্রি সৌদি লিবারেলস’ বলে একটি ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১২ সালে তাকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সাজা দেয়া হয়।
ইতোমধ্যে এ বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে ৫০টি দোররা মারা হয়েছে। কিন্তু বাকী দোররা মারা স্থগিত রাখা হয়।
গত জুনে সৌদি আরবের সুপ্রীম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে সাজা বহাল রাখে।
                 নিজের সন্তানদের সঙ্গে রাইফ বাদাউই                
রাইফ বাদাউইর কানাডা প্রবাসী স্ত্রী এনসাফ হায়দার বলেছেন, এই পুরস্কার তাদের কাছে আশা এবং সাহসের বার্তা বয়ে এনেছে।
আন্দ্রে শাখারভ পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন নেলসন মানডেলা, অং সান সুচি এবং মালালা ইউসুফজাই। bbc

অবশেষে 'এক সন্তান নীতি' বাতিল করছে চীন

 
                                
বহু দশক ধরে কঠোরভাবে 'এক সন্তান নীতি' অনুসরণের পর চীন অবশেষে তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এখন থেকে চীনের সব দম্পতি দুটি সন্তান নিতে পারবেন বলে জানাচ্ছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
কমিউনিষ্ট পার্টির তরফ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে আজ এই ঘোষণা দেয়া হয়।
১৯৭৯ সালে চীনে বিতর্কিত এক সন্তান নীতি চালু করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল চীনে জন্মহার কমানো এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে এই নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে যেভাবে চীনের জনসংখ্যায় তরুণদের তুলনায় প্রবীনদের সংখ্যা বাড়ছে তা নিয়ে।
ধারণা করা হয়, চীনের এক সন্তান নীতির কারণে দেশটিতে অন্তত ৪০ কোটি জন্ম নিরোধ করা গেছে।
যেসব দম্পতি এই এক সন্তান নীতি লংঘন করেছেন, তাদের জন্য জরিমানা থেকে শুরু করে কর্মচ্যূতি এমনকি জোর করে গর্ভপাত ঘটানোর মত কঠোর সাজার বিধান ছিল।
কিন্তু বিগত দশকগুলোতে ক্রমাগত এই নীতি কিছুটা শিথিল করা হয়। কারণ বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করছিলেন, এই নীতির কারণে চীনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। bbc

'ভারত সরকার হিন্দু স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে'

                               
ভারতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে এবার সামিল হয়েছেন দেশটির নামকরা বিজ্ঞানী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারা। এদের অনেকেই তাদের জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ভারতের একজন নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞানী পি এম ভার্গব বৃহস্পতিবার তার পদ্মভূষণ পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।
পদ্মভূষণ ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার।
মিস্টার ভার্গব এবং তার ১০৭ জন সহকর্মী এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পি এম ভার্গব বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দিচ্ছেন, কারণ তাঁর আশংকা ভারত সরকার গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে হিন্দু স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার পরিচালিত হচ্ছে ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন আরএসএস দ্বারা। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণকে এখন বিজ্ঞানমনস্কতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে দশ জন চলচ্চিত্র নির্মাতা তাদের জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে আছেন দিবাকর ব্যানার্জি এবং অনন্ত পট্টবর্ধন।
মুম্বাইতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকার ঘোষণার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে বহু নামকরা ভারতীয় লেখকও তাদের জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদ জানান। bbc

প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঔষধ পরীক্ষায় সফলতা


    প্রোস্টেট ক্যান্সার হাঁড়েও ছড়াতে পারে।
প্রোস্টেট ক্যান্সার হাঁড়েও ছড়াতে পারে।
জীনগত পরিবর্তনের কারণে প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য প্রথম ঔষধ পরীক্ষায় সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
লন্ডনের ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট এই পরীক্ষা চালিয়েছে। নিরাময়ের অযোগ্য এমন ৪৯ জন ক্যান্সার রোগীর উপর এই ঔষধের পরীক্ষা চালানো হয়।
এই পরীক্ষায় দেখা গেছে নতুন উদ্ভাবিত ঔষধটি ৮৮ শতাংশ রোগীর টিউমারের বৃদ্ধি কমাতে সক্ষম হয়েছে।
ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে এই ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক।
স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রোগীদের স্তনের সুনির্দিষ্ট জীনগত পরিবর্তনের উপরেই এই ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।
কিন্তু প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঔষধটি ক্যান্সারের জন্য দায়ী জীনগত পরিবর্তনের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। শরীরের কোন অংশে ক্যানসার তৈরি হচ্ছে সেটি মূল বিষয় নয়।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ১৬ জন রোগীর মধ্যে ১৪ জনের ক্ষেত্রেই এই ঔষধটি ভালো ফলাফল দিয়েছে।
প্রোস্টেট ক্যান্সার হাঁড়েও ছড়াতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তিরা ছয়মাস থেকে দেড় বছর পর্যন্ত এই ঔষধ সেবন করেছেন।
গবেষকরা বলছেন পরীক্ষার সময় যাদের উপর এই ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছিল তারা ১০ -১২ মাস বেঁচে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু এই ঔষধ প্রয়োগের পরে অনেকেই এক বছরের বেশি সময় বেঁচে ছিলেন।
পুরুষরা যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তার মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার পাঁচ নম্বরে।
লন্ডনের ক্যান্সার ইন্সটিটিউট বলছে তাদের এই পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্তদের দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে এই ঔষধ কতটা ভূমিকা রাখবে সেটি নির্ণয় করতে আরো পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।
bbc

গুগলের ইন্টারনেট বেলুন ঘিরে ফেলবে পৃথিবী

 
   
এরকম তিনশো বেলুন দিয়ে পৃথিবীকে ঘিরে তৈরি হবে গুগলের ইন্টারনেট রিং
দূর্গম এলাকাগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দিতে আকাশে তিনশো বেলুন ছাড়ছে গুগল।
এই পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা করে গুগল জানিয়েছে, তারা পৃথিবীর চারপাশে তিনশো হিলিয়াম বেলুনের একটি রিং তৈরি করতে চায়। এই বেলুনে বাঁধা থাকবে দুটি করে রেডিও ট্রান্সিভার, যেগুলো নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে।
এছাড়া বেলুনে আরও থাকবে একটি করে ফ্লাইট কম্পিউটার এবং জিপিএস কম্পিউটার।
আগামী বছর নাগাদ পৃথিবী ঘিরে এই বেলুনের রিং তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করছে গুগল।
যারা এই বেলুনের আওতার মধ্যে থাকবেন, তারা নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ পাবেন।
ইন্দোনেশিয়ার তিনটি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক গুগলের এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
এর আগে শ্রীলংকাও একই ধরণের এক প্রকল্পের জন্য গুগলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়।
গুগলের এই ইন্টারনেট সংযোগ হবে ফোর-জি মানের। bbc

বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেন শমসের মবিন চৌধুরী

শমসের মবিন চৌধুরী                    
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শমসের মবিন চৌধুরী।
মি. চৌধুরী পদত্যাগের বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শুধু ভাইস চেয়ারম্যানের পদ নয়, রাজনীতি থেকেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। সে কারণেই তার এ সিদ্ধান্ত।
গতরাতে মি. চৌধুরী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
শমসের মবিন চৌধুরী এমন এক সময়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন যখন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডনে অবস্থান করছেন।
মি. চৌধুরী স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও বিএনপি’র সূত্রগুলো বলছে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হবার পরে তিনি গত বেশ কয়েকমাস ধরেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
গত জানুয়ারি মাসে বিএনপি যখন দেশজুড়ে অবরোধের ডাক দিয়েছিল তখন নাশকতার মামলায় তাকে আটক করা হয়।
প্রায় পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এর পর থেকেই তাকে দলীয় চেয়ারপার্সনের অফিসে তেমন একটা দেখা যায়নি।
বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে বিএনপি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ রক্ষা করতেন শমসের মবিন চৌধুরী।
বিএনপি’র অনেকে মনে করেন দলটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দুর্বল করতেই মি. চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল।
২০০১ সালে বিএনপি’র নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর সাবেক কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপিতে যোগ দেবার পরে মি. চৌধুরী দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন।
কিন্তু রাজনীতি থেকে তার এই আকস্মিক অবসর দলের অনেককেই খানিকটা বিস্মিত করেছে।

হোসেনি দালানে বোমা হামলা:আরো একজনের মৃত্যু

 
   
                 আশুরার রাতে এখানেই বোমা হামলা হয়েছিল।
বাংলাদেশে গত ২৪শে অক্টোবর আশুরার সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিহত ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন এবং তার বয়স প্রায় ৫৫ বছর। আজ সকালে তিনি মারা যান।
পুলিশ বলছে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় জামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছিলেন । এনিয়ে সে ঘটনায় দুইজন মারা গেলেন।
আশুরার রাতে ঢাকার পুরনো অংশের হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় পরপর বেশ কয়েকটি বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই এক কিশোর নিহত হয়।
                 বাংলাদেশে আশুরার সমাবেশে এর আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
প্রথমদিন নিহত সেই কিশোর সুন্নি সম্প্রদায়ের হলেও বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া জামাল উদ্দিন কোন সম্প্রদায়ের সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সেই হামলায় পঞ্চাশজনের বেশি আহত হয়েছিল। আহতদের অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে পিরে গেছেন।
আশুরার সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় কারা জড়িত সে বিষয়টি এখনো পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
এই হামলার পেছনে মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-এর সম্পৃক্ততা দাবী করা হলেও, বাংলাদেশের পুলিশ এর পেছনে কোন জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।